সোনারগাঁ থানার মামলা নং-০৮, তারিখ-০৩/০৩/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দঃবিঃ

959

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গত ০২/০৩/২০১৯ খ্রিঃ তারিখ সকাল ০৯:০০ ঘটিকায় সোনারগাঁও থানা পুলিশ সংবাদ পান যে, সোনারগাঁও থানাধীন কার্পুদী সাকিনস্থ ব্রক্ষপূত্র নদীর পাড়ে ফাঁকা জায়গায় একটি অজ্ঞাতনামা পুরুষের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার পূর্বক মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুুত করতঃ ময়না তদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। অজ্ঞাতনামা (পুরুষ) লাশের পরিচয় জানার জন্য সোনারগাঁও থানা পুলিশ অনলাইন মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়া ও পত্রিকার মাধ্যমে পরিচয় জানা চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে উক্ত অজ্ঞাতনামা লাশের বড় ভাই মোঃ শামসুল হক মৃত ব্যক্তির নাম- আমিনুল ইসলাম @ কালু(২৫), পিতা-মৃত আজমত মিয়া, গ্রাম-এনায়েত নগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ বলে লাশ সনাক্ত করেন। এ সংক্রান্তে মৃতের ভাই মোঃ শামসুল হক অজ্ঞাতনামা আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করলে সোনারগাঁ থানার মামলা নং-০৮, তারিখ-০৩/০৩/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।

সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মনিরুজ্জামান নিজেই উক্ত মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একাধিক টিম সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং বন্দর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত ০৪(চার) জন আসামীকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মৃত আমিনুল ইসলাম @ কালু এর স্ত্রী মোসাঃ রিক্তা বেগম(২৫) এর সাথে তাদের বাসায় ভাড়াটিয়া আসামী রেজাউল করিম পলাশ (৩০) এর সাথে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামী রেজাউল করিম পলাশ ও মৃতের স্ত্রী- রিক্তা বেগম(২৫) পরামর্শ করে সহযোগী আসামী- মাসুম(২৭) ও ইমরান(২৩)দের নিয়ে গত ০১/০৩/২০১৯ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৮:০০ ঘটিকায় বাড়ি হতে ডেকে এনে একই তারিখ রাত্র অনুমান ২০:৩০ ঘটিকায় উক্ত ঘটনাস্থলে ধারালো অস্ত্র(চাকু) দিয়া গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত হতে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা আমিনুল ইসলাম @ কালু হত্যা করার ঘটনার কথা ¯^ীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিপিএম(বার), পিপিএম(বার) নারায়ণগঞ্জ জেলা যোগদানের পর হতে তার দিক-নির্দেশনায় ও তদারকিতে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উৎঘাটনসহ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবে। মামলার রহস্য উৎঘাটনসহ আসামী গ্রেফতার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সদা তৎপর।