সোনারগাঁয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল হক

636

সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সাংগঠনিক নিয়ম না মানলে ওই সদেস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক। তিনি জানান, আমরা নিজেরা কিছু রাজনৈতিক বিষয়কে সামনে রেখে নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্য গড়ে তুলেছি। সোনারগাঁ উপজেলার সাধারণ নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত এমন মেয়র, চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের নিয়ে এ ফোরাম গঠন করা হয়েছে। আমাদের অভিভাবক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান এ ফোরামের অন্যতম উপদেষ্টা। যার হাত ধরে সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতি পরিচালিত হয়। আবার এমন একজন লোকের সমš^য়ে গঠন করা হয় জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম, যার সভাপতি হলেন সোনারগাঁয়ের দুইবারের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। এ ফোরামে থেকে কেউ ফোরামের নির্দেশ না মানলে ঐক্য ফোরামের নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, আমরা ফোরামের সব সদস্য একত্রিত হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিবো। ফোরামে থাকবে অথচ নিজের ¯^ার্থে ফোরামের সাংগঠনিক নিয়ম মানবে না এটা হতে পারেনা। আসন্ন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্য ফোরামের এক সদস্য ও সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ ফোরামের নিয়ম না মেনে নিজের স্বার্থে ফোরাম সমর্থন দেয়নি এমন এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। এছাড়া জাহিদ হাসান জিন্নাহ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও লিয়াকত হোসেন খোকার প্রচারনায় তেমন দেখা যায়নি। যখন কায়সার হাসনাতের সিংহ মার্কা মাঠ ছেড়ে দেয় ঠিক তার একদিন আগে লিয়াকত হোসেন খোকার প্রচারনায় মাঠে নামেন তিনি। এ নিয়ে ওই সময় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। তার কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই জাহিদ হাসান জিন্নাহ আবারও পুরনো রূপে ফিরে যান।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁ) আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁয়ে ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ১টি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলদের নিয়ে একটি ঐক্য গড়ে তোলেন। তার নাম দেয়া হয় সোনারগাঁ জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এ কে এম শামীম ওসমান সোনারগাঁ রয়েল রির্সোটে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ফোরামের উদ্বোধন করেন। সে ফোরামের সভাপতি করা হয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয় বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হককে। এ ফোরাম সৃষ্টির পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সকলে এক জোট হয়ে কাজ করেন। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ফোরামে দেখা দেয় বেশ কিছু ভিন্নতা।
সম্প্রতি, উপজেলা নির্বাচনে ঐক্য ফোরামের সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা, মেয়র সাদেকুর রহমান ভ‚ঁইয়া ও ৭টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর কালামের ঘোড়া প্রতিককে সমর্থন করে, সেখানে সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ মোশারফ হোসেনকে সমর্থন দেন। একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিয়াকত হোসেন খোকাকে সমর্থন না দেয়ায় ফের ঐক্য ফোরামের বাহিরে গিয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানকে সমর্থন দেয়ায় জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের ভবিষ্যৎ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাকে নৌকা প্রতিক দিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সকল চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র, কাউন্সিলরসহ সকলের উচিত তাকেই সমর্থন করা ও তার পক্ষেই প্রচার-প্রচারনাসহ সবধরনের সহযোগীতা করা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত সোনারগাঁয়ের এই জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামে সম্প্রতি ফাটল ধরতে শুরু করেছে। গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ আলোচিত ছিল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এসে সংগঠনটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। সংগঠনের একটি পক্ষ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া নিয়ে আরেকটি পক্ষ ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেছে। ফলে এই সংগঠনটির ভবিষ্যত কার্যকারিতা নিয়েও ওঠেছে নানান প্রশ্ন। সংগঠনটির বেশির ভাগ চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানরাই এখন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়েছেন। ফলে বিতর্ক আরও বেড়ে গেছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানদের সমর্থনকে কেন্দ্র করে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামটি যে কোনো মুহুর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে। এতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনেকের ধারণা। তবে জাতীয় নির্বাচনের মত এই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের পজিটিভ প্রভাব তেমন একটা দেখা যাবে না। কারন নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের ক’জন রহস্যজনকভাবে হুট করে তিনজন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। যা অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই তা জানেনও না।
সূত্রটি জানায়, উপজেলা জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বারদী ইউপি’র চেয়ারম্যান জহিরুল হকের নেতৃত্বে নোয়াগাঁও ইউপি’র চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান, বৈদ্যেরবাজার ইউপি’র চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফ, শম্ভুপুরা ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, কাঁচপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর ও জামপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান হামীম শিকদার শীপলুর সমš^য়ে একটি কোরাম স¤প্রতি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মেম্বার ও পৌর কাউন্সিলরদের কারো কোনো মতামত না নিয়েই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালাম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাবু ওমর ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাহমুদা আক্তার ফেন্সীকে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় সেসব ইউনিয়নের মেম্বার ও পৌর কাউন্সিলরদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সাংগঠনিক নিয়ম না মানলে সদেস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক যে হুমকি দিয়েছেন তা নিয়েও চলছে সেসব ইউনিয়নের মেম্বার ও পৌর কাউন্সিলরদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং চরম উত্তেজনা।