স্ত্রীর মিথ্যে যৌতুক ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলা থেকে বাঁচতে চান জিহাদ

1553

বিশেষ প্রতিনিধি, সময়ের চিন্তা ডট কম: বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রচুর মিথ্যে মামলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নারীর পক্ষে যৌতুক ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়াতে পান থেকে চুন খসলেই কেউ কেউ স্বামী ও তার পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধে কাড়ি কাড়ি মিথ্যে অভিযোগ এনে মামলা ঠুকে দিচ্ছেন। পরে সেইসব মিথ্যে অভিযোগ একটা পর্যায়ে প্রমানিত না হলে জামিন নিয়ে কিংবা মামলা থেকে খালাস পেলেও অনেকেই সেই ভয়াবহ দুঃসময়ের কথা ভুলতে পারেন না। যা তাদের ব্যক্তিজীবনে বিরুপ প্রভাব ফেলে।

তবে বিশেষ করে যৌতুক নিয়ে মিথ্যে মামলা করলে ৫ বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে মর্মে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। এরপরও থেমে নেই নারী নির্যাতনের নামে মিথ্যে মামলা।

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি খবরে চোখ আটকে যায় আমাদের। ভুক্তভোগি ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায় ‘রাজধানীর গুলশান থানায় যৌতুকের দাবিতে মারধর, পরকীয়া এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে ইমরোজ হোসেন জিহাদ নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা’ নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তার ভেতরের আসল ঘটনা। মূলত ব্যবসায়ী ইমরোজ হোসেন জিহাদের সাথে ঘটে চলা ঘটনাকে উল্টো করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি তার পরিবারের।

জিহাদের ভগ্নিপতি ব্যবসায়ী মীর মাহির আসেফ জানান, ২০১৩ সালের ২৮ জুন শান্তিনগর পীর সাহেবের গলির বাসিন্দা আমার শশুর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে জিহাদের সঙ্গে ২৫ লক্ষ্য টাকা দেনমোহর (উসুল) এর বিনিময়ে মাহবুবা ইসলাম অনামিকার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। শুরুতে কিছুদিন ভাল চললেও একটা সময় তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।

বিভিন্ন সময় ঝগড়া করে স্বামীর দেয়া গিফটগুলো নিয়ে নিয়মিত বাবার বাড়িতে রেখে আসা সহ প্রায়ই জিহাদ ভাইকে না জানিয়ে দেশের বাইরে বয়ফ্রেন্ডদের নিয়ে সে বেড়াতো। রাতভর নেশা করে পার্টি করত। জিহাদ ভাই সন্তান নিতে চাইলে ভাবি তার মাকে বলে ভাইকে শাসাতো। এক পর্যায়ে সে স্থায়ীভাবে ৭টা লাকেস ভর্তি জিনিষপত্র নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। এ ব্যাপারে পারিবারিক ভাবে বসে আপোষ মীমাংসার আহ্বানকে গ্রহণ না করে অনামিকা গত বছরের ১৫ জুলাই আদালতে মামলা ঠুকে দেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে- বিয়ের ২ বছর বছর পর ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় স্বামী তাকে শারিরীক নির্যাতন করে আসছিলেন। পরে তাজরিন জুম্মা(বর্তমান স্ত্রী) নামে এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়ান জিহাদ এবং ঘটনার দিন অনামিকাকে মারধর করে জোড়পূর্বক তার থেকে ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রেখে দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় স্বামী ও তার পরিবার। অথচ পিবিআই এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সেদিন সে ৭টা লাকেস ভর্তি জিনিষপত্র নিয়ে ঠান্ডা মাথায় বাবার বাড়ি চলে যায়, যা বাড়ির সিসিটিভ ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

এছাড়া অনামিকা দাবি করেছেন- বিয়ের সময়ের কাবিনের ২৫ লক্ষ্য টাকা, মানহানী মামলায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরন ও ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। মূলত তার ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিলই না এবং কাবিনের ২৫ লক্ষ্য টাকা বিয়ের দিনই উসুল করা হয়েছে। যা বিয়ের ভিডিওতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে পিবিআই তদন্ত রিপোর্টে পাওয়া গেছে। এরপরও সে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাদের পরিবারকে হয়রানি করে চলেছে।

মীর মাহির আসেফ বলেন, সংসারকে প্রাধান্য না দিয়ে একের পর এক বয়ফ্রেন্ডকে সাথে নিয়ে নাইট ক্লাব, দেশের বাইরে ট্যুর দিত সে, অথচ সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টিকে উল্টো করে তথ্য দেয়াতে গণমাধ্যমে ভুল তথ্যসহ সংবাদগুলো প্রকাশিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা আমাদের কাছে এলে আমরা সব ধরনের প্রমান দেখাতে পারব।

তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ বাদী হয়ে তার তিনি গুলশান থানায় জিহাদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন। যে মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তিনি এখন জামিনে রয়েছেন। সে মামলায় জিহাদ ভাই ছাড়াও তার মা, বাবা ও মামাতো ভাইকে আস্বামী করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তার এই উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অতীষ্ট হয়ে জিহাদ ভাই ও আমাদের পরিবার অনেকবার মিউচ্যুয়ালি বসে বিষয়টির সুরাহা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সেটিতেও রাজি ছিলনা। আর এদিকে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করে আমাদের মান সম্মান যেমন নষ্ট করছেন অনামিকা, তেমনি বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের দিয়ে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে প্রচন্ড মানসিক টর্চার করে চলেছেন আমাদেরকে।

এদিকে ইমরোজ হোসেন জিহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে টেলিফোনে অনেকটা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি আসলে অনামিকার সাথে সংসার করা জন্য সব ধরনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তবেই তাকে আইনগতভাবে তালাক প্রদান করে নতুন করে বাঁচার আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলাম। শুধু তাই নয়, যেহেতু কাবিনের সকল অর্থ বিয়ের দিনই পরিশোধ করেছি, তাই কোনো ধরনের লেনদেন না থাকায় সুস্থ স্বাভাবিক জীবন-যাপনের উদ্দেশ্যে আইনগতভাবে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হই। কেননা সাংসারিক দিক থেকে আমরা আরো আগে থেকেই আলাদা থাকছিলাম এবং বার বার অনুরোধ করার পরেও সে কিংবা তার পরিবার বিষয়টির সমাধানে এগিয়ে আসেনি। ফলে তাকে বৈধভাবে আমি তালাক দিয়েছিলাম। আর সে এটি এক পর্যায়ে রিসিভও করেছেন। তাহলে কেনো আমি যখন তাজরীনকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি, তখন এসে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে সে আমাদের সবাইকে এভাবে মানসিক যন্ত্রণা দিচ্ছে? যে আমার অতীত ছিল, সে কেনো আমার বর্তমান স্ত্রী- যিনি এখন আমার অনাগত সন্তানের মা হতে চলেছে, তাকেও মানসিকভাবে টর্চার করছে? যদি আমার এই অনাগত সন্তান ও স্ত্রীর কোনো ক্ষতি হয় তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? আজকে আমরা বাসা থেকে বেরোতে ভয় পাই, ঘরে ঘুমুতেও ভয় পাই। কখন আরো একটি নতুন মামলা, গ্রেফতার, মিডিয়ায় মিথ্যে সংবাদ প্রচার করে আমার মানহানি, সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা এসব আমাদের সাথে ঘটে। প্রতিটা মুহুর্ত একটা অজানা আতঙ্কে ভুগতে হচ্ছে আমাদের। আমিতো তার সাথে সংসার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে করেনি। তাহলে কেনো সে এখন তার নিজেকে আমার আইনগত স্ত্রী দাবি করছে? তার যদি লিগ্যালী কোনো আর্থিক অধিকার থাকে আমার কাছে, তাহলে আমি সেটি দিতে রাজি আছি। কিন্তু এভাবে মানহানির নামে ১০ কোটি, সমাজের সামনে পরিশোধ করা কাবিনের ২৫ লাখ, ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এর মতো মিথ্যে বানোয়াট কোনো জরিমানা দিতে রাজি নই।

অনেকটাই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত জিহাদ বলেন, আমরা মিডিয়াকে শ্রদ্ধা করি, তাই চাইব আপনারা দয়া করে কোনো সংবাদ প্রকাশ করার আগে আমাপদের সাথে কথা বলুন, আমাদের কাছে অনামিকার বিরুদ্ধে যেসব প্রমান রয়েছে তা নিয়ে গিয়ে আপনারা সংবাদ প্রচার করুন। পাশাপাশি পুলিশ, আইনজীবী ও সাংবাদিক সহ আপনাদের সবার কাছে একটাই দাবি- প্লিজ আপনারা মিথ্যে মামলা, মিথ্যে সংবাদ প্রচার না করে আমাদের এবং আমাদের অনাগত সন্তানকে বাঁচতে দিন।