শামীম ওসমানের সভায় জেলা পুলিশ সুপারের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান

476

সময়ের চিন্তা রিপোর্টঃ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নারায়নগঞ্জ ৪ আসনের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে ‘ঘুষখোর’ উল্লেখ করে তার প্রত্যাহার চেয়েছেন। সাম্প্রতিক কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের নিয়ে জরুরী সভা ডাকেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। ওই সভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। স্লোগানে তারা জেলা পুলিশ সুপারের পদত্যাগ দাবি করেন।
৬ই এপ্রিল শনিবার বেলা ৩টায় ইসদাইরে অবস্থিত বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী পরিবারকে ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও।’
সভার শুরুতেই শামীম ওসমান বক্তব্য প্রদান করতে গেলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। এক পর্যায়ে তারা জেলা পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় ‘ঘুষখোর এসপির প্রত্যাহার চাই, নারায়ণগঞ্জকে গাজীপুর হতে দেব না, খাগড়াছড়ি ট্রান্সফার চাই’ বলে নানা স্লোগান দেয় উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
সভায় শামীম ওসমান বলেন, আমি জানি তোমাদের ভেতরে এখন বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। আজকের এই ব্যানারে বক্তব্য হচ্ছে, আমরা সরকারি দল, আমরা আওয়ামী পরিবার। আমাদের পিতা-মাতার পরে আমাদের কাছে সবচেয়ে দামী হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তারপরেই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। তার কাছেই আমাদের সব চাওয়া এবং পাওয়া। আমি জানি, যারা তরুণ তাদের রক্ত টগবগ করছে।
এ সময় তিনি বলেন, সিনিয়র নেতারা রাগারাগি করছে, হৈচৈ করছে। আমি বলছি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কি দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তো শেখ হাসিনা। তিনি কি নারায়ণগঞ্জের খোঁজ-খবর রাখেন না? শুধু একটা কথাই বলি, তিনি নারায়ণগঞ্জের খোঁজ-খবর রাখেন কি রাখেন না তা আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে টের পাইয়া যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ডোন্ট প্লে, নারায়ণগঞ্জে খেইলেন না। সাংবাদিক কাউকে প্রশ্ন করবে, প্রশ্ন করায় তাকে জুয়ার মামলার আসামি কইরা দিবেন। আমার আত্মীয়-স্বজনকে মদের সাপ্লাইয়ার বানাবেন। মনে করবেন, আমি ভয় পেয়ে যাব। এইগুলি কইরা আমাকে কাবু করতে পারবেন না।
আওয়ামীলীগের এই সাংসদ বলেন, সমস্যা একটাই, আমাদের হাত-পা বাঁধা। বাদল, খোকন সাহা, চন্দন সবাই বলছে, কোন কথা চাই না, কর্মসূচি দেয়া হোক। তারা বলছে, পুরো নারায়ণগঞ্জে ৫ লাখ লোকের সমাবেশ কইরা পুরা নারায়ণগঞ্জ বন্ধ করে দেবো। আমি বলছি, নারায়ণগঞ্জে সবার পাশে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আছে।
সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল বলেন, নারায়ণগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। নারায়ণগঞ্জ খুন, গুম, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত হবে। লক্ষ্য করে দেখলাম ওই ঘুষখোর মহল চক্রান্তে মেতে উঠেছে। জামাতের পয়সা আওয়ামী লীগকে ছোট করার চেষ্টা করছে। কত্তো বড় সাহস আমাদের নেতা নিজামের নামে মামলা করে, মীরুকে গ্রেফতার করতে চায়!
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহ সভাপতি চন্দন শীল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, সাফায়েত আলম সানি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাঈল রাফেল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে ওসির জিডি, আবার ওই ওসির বদলি, শামীম ওসমান অনুসারী কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার মোবাইলের ভয়েস রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ, বাংলাদেশ পর্যটক করপোরেশনের লিজকৃত পাগলা মেরি এন্ডারসনে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৮ জন আটক ও বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার এবং মাদকের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যবসায়ী নেতা তানভীর আহমেদ টিটুর নাম প্রকাশ করায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এক প্রকারের স্নায়ু যুদ্ধ চলছে গত কয়েকদিন যাবত। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের অনুসারীদের অনেকেই জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু না বললেও পরোক্ষভাবে বিরুদ্ধাচ্চরন করতে দেখা গেছে।