অশ্রুসিক্ত নয়ন আর কান্না জড়ানো কণ্ঠে সেলিম ওসমান জানালেন ক্যান্সার আশক্সখামুক্ত বন্দর মাতা

497

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান। যাকে ভালবেসে বন্দরবাসী ‘বন্দর মাতা’ আখ্যায়িত করেছেন। বর্তমানে যিনি অসুস্থ্য হয়ে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে বন্দরে প্রায় প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মন্দিরে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করেছিলেন বন্দরের সাধারণ জনগন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা আশক্সকা করে ছিলেন হয়তো বা ক্যান্সার জনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মিসেস নাসরিন ওসমান। এ নিয়ে তাঁর পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় থাকলেও সেটা কখনো মুখ ফুটে প্রকাশ করেননি।

মঙ্গলবার ৩০ এপ্রিল সকালে বন্দরে নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল মাঠে বড় ভাই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়ার অনুষ্ঠানে এমপি সেলিম ওসমান বক্তব্য শুরু করার আগ মুহুর্তে তার মোবাইল ফোনটি বেজে উঠে। বিপরীত পাশ থেকে তাঁকে জানানো হয় থাইল্যান্ডের হাসপাতালের চিকিৎসকেরা একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পুক্সখানুপুক্সখ ভাবে পর্যবেক্ষন করে তাঁরা জানতে পেরেছেন, মিসেস নাসরিন ওসমানের অসুস্থ্যতার ব্যাপারে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক ভাবে যে ক্যান্সারের যে আশক্সখা করে ছিলেন সেই ধারনা ভূল প্রমানিত হয়েছে। তবে মিসেস নাসরিন ওসমানের শরীরে একটি টিউমার পাওয়া গেছে। সেটি কি কারনে হয়েছে তা সঠিক ভাবে নির্ণয় করতে আরো কয়েকটি পরীক্ষা করতে হবে। এতে করে তাঁকে আরো বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষনে থাকতে হবে।

ফোনটি কেটে ডায়াসে গিয়ে বক্তব্যের শুরুতে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে সহধর্মিনীর ব্যাপারে চিকিৎসকের দেওয়া সিদ্ধান্তের কথা গুলো সবার কাছে প্রথমবারের মত প্রকাশ করেন এমপি সেলিম ওসমান। এ সময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং আপনাদের সকলের দোয়াই মরনব্যাধীর আশক্সখা থেকে আজকে তাঁকে আল্লাহ মুক্ত করেছেন। গত দুমাসে নাসরিন ওসমান ৪ বার পবিত্র মক্কা, মদিনা গিয়ে ওমরা পালন করেছেন আর আমি ৬বার ওমরা করে আল্লাহ কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছি। কথা গুলো বলার সময় এমপি সেলিম ওসমানের দুচোখ ছিল অশ্রæ সিক্ত। কান্না চাপা রাখতে গিয়ে ভারী হয়ে উঠছিলো কণ্ঠ¯^র।

এ সময় উপস্থিত সকলেই তাদের বন্দর মাতার খবরটি শুনে একদিকে যেমন আতঁকে উঠেন অন্যদিকে চিকিৎসকের আশক্সখা ভুল প্রমানিত হওয়ায় আল্লাহ দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তবে সংসদ সদস্যের চোখে জল আর কান্না জড়িত কণ্ঠে সেখানকার পরিবেশ একটু গম্ভীর হয়ে উঠলেও তাদের প্রিয় সাংসদের চোখের অশ্রæ তাঁর সহধর্মিনীর প্রতি ভালবাসার বহি:প্রকাশ উপস্থিত নারী-পুরুষ যুবক বৃদ্ধ কারোই বুঝতে বাকি ছিলনা।

সকলের উদ্দেশ্যে ক্ষমা ও দোয়া প্রার্থনা করে সেলিম ওসমান আরো বলেন, গত দুটি মাস আল্লাহ আমাকে এক কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন। আমি নিজে অসুস্থ্য আমার দুটি চোখের অপারেশন হয়েছে। একটি চোখে আমি ৭৫ ভাগ দেখতে পাই অপরটিতে মাত্র ২৫ ভাগ। ডাক্তার বলেছেন একটি চোখে আবারো অপারেশন করতে হবে। এর মধ্যে নাসরিন ওসমানকে নিয়ে ডাক্তারের এমন আশক্সখা। সবকিছু মিলিয়ে এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমার দিন গুলো অতিবাহিত হয়েছে। অনেক সময় হয়তো আমি অনেকের সাথে বাজে ব্যবহার করে ফেলেছি নিজের অজান্তে। অনেক সময় অনেক অনুষ্ঠানেও আসতে চাইনি বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আমি এলাকার উন্নয়ন কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে দেইনি। সবশেষে বলবো গত দুমাসে আমার অজান্তে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে বা আমার কথায় যদি কারো মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি পাশাপাশি আপনাদের কাছে আবারো দোয়া প্রার্থনা করছি যেমনটি গত দুমাস ধরে আপনাদের কাছে প্রার্থনা করে আসছি।

জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের এর সভাপতিত্বে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম,এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, ১৮নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগম, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া, জেলা মহিলা পার্টির সভানেত্রী আঞ্জুমান আরা ভূইয়া, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, কলাগাছিয়া ইউনিনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম,এ সালাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।