সোনারগাঁ থানার মুন্সী আশরাফুলের ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যে অসহায় বিদেশ যাত্রীরা

530

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার মুন্সী (বকশি) আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে হয়রানীর কারনে অসহায় সোনারগাঁ উপজেলার বিদেশ যাত্রীরা। সোনারগাঁ থানার মুন্সী (বকশি) আশরাফুল আলমের আচরনে মনে হয় সে নিজেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। যেকোন সাধারন মানুষ তার নিকট সেবা চাইতে গেলে সেবার নামে সে সর্বদা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ভূক্তভোগী কয়েকজন বিদেশ যাত্রীর অভিযোগ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে সোনারগাঁ থানার মুন্সী (বকশি) আশরাফুল আলম উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যাপক ঘুষ বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মামলার নথি দেখা, এজহারের ফটোকপি নেয়া এবং আদালতে মামলা হলে ভালো তদন্ত কর্মকর্তা দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছে এই গুনধর ঘুষখোর মুন্সী। বিদেশ যাত্রায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য যে কোন যাত্রী সোনালী ব্যাংকে মাত্র ৫০০ শত টাকা জমা দিয়ে পুলিশি সহায়তায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার কথা থাকলেও সেজন্য মুন্সীকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। বিদেশে যাওয়ার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে থানায় যাওয়া ব্যক্তিদেরকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে ক্লিলিয়ারেন্স করে আনতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিচ্ছে মুন্সী আশরাফুল আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সোনারগাঁ থানার মুন্সী (বকশি) আশারাফুল আলম পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য বিদেশে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা নিচ্ছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, আসামী চালান, মামলার নকল বিক্রি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, কোর্ট পিটিশন, মামলার খরচসহ অসংখ্য অভিযোগ। কেউ যদি টাকা কম দেয় তাহলেই বেড়ে যায় হয়রানি। টাকা ছাড়া কোন সেবা দেননা তিনি। এছাড়া মামলার নথি, কাগজপত্রের নকল সরবরাহসহ সব কিছুতেই তাকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। মামলার নকলের কপি নিতে তাকে দিতে হয় ৫শত থেকে এক হাজার টাকা।

জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের অনেক গরীব মানুষ বহু কষ্ট করে টাকা পয়সা ধার-দেনা করে বিদেশে পাড়ি দেয়ার জন্য পাসপোর্ট করেন। এদিকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য সোনারগাঁ শাখার সোনালী ব্যাংক থেকে পাঁচশত টাকা জমা দেয়ার বিনিময়ে অনলাইনে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার, বিশেষ শাখা বরাবর আবেদন করতে হয়। আবেদনটি ওই অফিস থেকে একটি ¯^ারক নাম্বার দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় সোনারগাঁ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) বরাবর। কিন্তু ওসির দায়িত্ব হলো যে কোন এএসআইকে দিয়ে তা তদন্ত করে পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিবেদন দেয়া। অথচ এসব দায়িত্ব দেখভাল করেন মুন্সী আশরাফুল আলম নিজেই। তাছাড়া মুন্সী তার পছন্দ মত দারোগাকে দিয়ে কোনরকম তদন্ত না করিয়ে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ শাখায়। তিনি ভাল-মন্দ ও অতিত রেকর্ড এবং মামলা মোকদ্দমা যাচাই বাছাই না করে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দেয়ায় অনেক সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। কিন্তু মুন্সী আশরাফুল আবেদনকারী থেকে থানার ওসি ও বিভিন্ন মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দফতরের নাম ভাঙ্গিয়ে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যদিও সেবাটি বিনামূল্যে দেয়ার নিয়ম থাকলেও মানুষকে বিপদে ফেলে সোনারগাঁ থানার এই মুন্সি আশরাফুল জোড়পূর্বক হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামান্য বেতনের একজন কনস্টেবল হলেও মুন্সী (বকশি) আশরাফুল আলমের মাসিক আয় প্রায় ১০ লাখেরও উপরে। অপরদিকে তাকে এ বিষয়ে সহযোগীতা করছে থানায় কর্মরত আরেক কনস্টেবল রাখাল চন্দ্র ও কনস্টেবল লুৎফর রহমান। দীর্ঘ ১০/১২ বছর ধরে অদৃশ হাতের ইশারায় কনস্টেবল রাখাল চন্দ্র অত্র থানায় কর্মরত আছেন। তার সাথে রয়েছে সোনারগাঁয়ের অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীর সখ্যতা। তাদের কাছ থেকে দূর্ণীতিবাজ মুন্সী আশারাফুল আলম মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। অপর কনস্টেবল লুৎফর রহমানও বিভিন্ন মাদকের স্পট ও বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের দীর্ঘদিনের এহেন কর্মকান্ডে সোনারগাঁবাসী পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে বলে অভিযোগে রয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বারদী, পিরোজপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা জানান, সোনারগাঁ থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে গেলে মূন্সী আমাদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে অনেক রফাদফার পর সাড়ে ৫ হাজার বা ৫ হাজার টাকায় করতে রাজি হয় এবং বলেছে, কোন তদন্ত ছাড়াই ক্লিয়ারেন্স করে দিবো। আর যদি কেউ টাকা কম দেয় তাহলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন মুন্সী আশরাফুল আলম। একই কথা বললেন শম্ভুপুরা ইউনিয়নের এলাহীনগর গ্রামের মানিক, নজরুল, নয়াপুরের আঃ মতিন, কাঁচপুরের আসাদসহ আরও অনেকে। প্রতিদিন অনেকগুলো পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করেন স্থানীয় ও দুর-দুরান্ত থেকে আগত ব্যক্তিরা। সেই হিসেবে মূন্সি আশরাফুল আলমের আয় মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার মুন্সী (বকশি) আশারাফুল আলম জানান, আপনার লোক হলে ওসি স্যারের সাথে কথা বলে আমার কাছে আসতে বলেন, কোন টাকা ছাড়াই আমি ক্লিয়ারেন্স করে দিবো।

এ বিষয়টি নিয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার সঙ্গে আলাপ করার প্রয়োজন নেই। মুন্সীর সঙ্গেই আলাপ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের খরচের বিষয়টি সমাধান করেন।