অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে মোটা অংকের টাকা দাবির অভিযোগ

1388

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে মোটা অংকের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন অন্তর্ভূক্ত এলাকার বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপন করতে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি মৌজায় ২৩ দশমিক ২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। উক্ত অধিগৃহণকৃত জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন অন্তর্ভূক্ত এলাকার বজ্র সংগ্রহ ও অপসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপন করতে এলএ কেস নং-০১/২০১৮ এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি মৌজায় ২৩ দশমিক ২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে। উক্ত অধিগৃহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার বরাবরে আবেদন করেন জমির মালিকরা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের দাবিকৃত টাকা না দিলে কোন ভাবেই তাদের আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিনে ঘুরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছে না জমির মালিকরা। একাধিক জমির মালিক জানায়, মোট মূল্যের উপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ টাকা দাবি করছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে আবেদন মঞ্জুর করছে না সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকার আবেদন কানোনগো সেলিম, সার্ভেয়ার বিলিয়ান, শরিফ ও আরিফসহ অন্যান্য কর্মচারীরা আবেদন পত্র গ্রহণ করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জমির মালিক জানান, সার্ভেয়ারসহ আরও কয়েকজন তাদের কাছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে টাকা দাবি করেছেন। অনেকে তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দিয়ে আবেদন মঞ্জুর করে নিয়েছেন। কিন্তু আমরা টাকা না দেয়ায় ক্ষতিপূরণের চেক পাচ্ছি না। তারা আরও জানায়, বর্তমানে আমাদের কাছে ওই পরিমান টাকা নেই। আমরা ওই টাকা যোগাড় করতে না পারায় দিনের পর দিন ঘুরছি। জমি বিক্রি ছাড়া আমাদের ওই পরিমান টাকা যোগাড় করা যাচ্ছে না। কিন্তু বর্তমানে জমি সরকারের হওয়ায় তা বিক্রি করাও অসম্ভব।
জালকুড়ি এলাকার কামাল মোল্লা ও শাহজাহান খোকন জানায়, তাদের সাড়ে ১২ শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় কোটি টাকা বিল আসে। এ বিল নিতে তাদের কাছে ১০% হারে টাকা দাবি করে। আমরা ৮% টাকা হিসাবে ১২ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছি। কিন্তু গত ১০ দিনেও আমাদের আবেদনটি মঞ্জুর করেনি।

এ বিষয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সারাওয়াত মেহজাবীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মৌখিক নয় লিখিত অভিযোগ পেলে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জানানো হবে।