নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর ০২ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার, ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমান উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার

425

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে র্যা ব-১১ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ২০১৮-২০১৯ বছরে র্যা ব-১১ কর্তৃক বেশ কয়েকটি সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সকল অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ ১০৮ জন বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতারকৃত এ সকল জঙ্গিদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের নেটওয়ার্ক এবং কার্যক্রমের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত সে সকল তথ্যাদি যাচাই-বাছাই ও বিশে­ষণের পর জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত যে সকল সদস্য এখনও গ্রেফতার হয়নি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

র্যা ব-১১ এর আওতাধীন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যা ব-১১ এর একটি আভিযানিক দল ১৯ মে ২০১৯ তারিখ ২৩০০ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর ভূইয়ার বাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এর সক্রিয় সদস্য ক। আবু সাঈদ(২৪), থানা-টঙ্গীবাড়ি, জেলা-মুন্সিগঞ্জ খ। এসএম মাহাদী হাসান@গোলাম রাব্বী(২৬), থানা-গৌরনদী, জেলা-বরিশাল উভয় এ/পি থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমান উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

আবু সাঈদ(২৪) ২০১১ সালে স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে এবং ২০১৬ নারায়ণগঞ্জ মেরিন একাডেমী থেকে মেরিন বিষয়ে ডিপ্লোমা করে। পড়াশুনার পাশপাপাশি ২০১৫ সালের দিকে অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। ২০১৪ দিকে বিভিন্ন মাহফিলে গিয়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। পরবর্তীতে ফেইজবুকে বিভিন্ন উগ্রবাদী পোষ্ট পড়ে এবং ইউটিউব এ বিভিন্ন জঙ্গীবাদী ভিডিও দেখে উগ্রবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। পরবর্তিতে কথিত বড়ভাই এর মাধ্যমে ২০১৬ সালে আনসার আল ইসলাম এ যোগদান করে। আনসার আল ইসলাম এ যোগদানের পর সে সংগঠের দাওয়াতি কাজ করত। সে ফেইজবুকে ও অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী লেখা পোষ্ট করত এবং তা শেয়ার করে মানুষের মধ্যে পৌছে দিত।
২০১৭ সালের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে ডৎরঃবৎং কহড়ঃ নামক ফিল্যান্সিং ব্যবসা শুর“ করে। তার ফিল্যান্সিং অফিসে নিয়মিত আনসার আল ইসলামের হালাকা অনুষ্ঠিত হত এবং এই হালাকায় নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও আশে পাশের জেলা গুলো হতে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যগণ উপন্থিত হত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। আবু সাঈদ নারায়ণগঞ্জের আনসার আল ইসলামের সমন্বয়ক হিসাবে কাজ করত। আবু সাঈদ ও এসএম মাহাদী হাসান@গোলাম রাব্বী দুজনের বাসা একই এলাকায় হওয়ায় আবু সাঈদের সাথে তার পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে এসএম মাহাদী হাসান@গোলাম রাব্বী আনসার আল ইসলামে (আনসার“ল­াহ বাংলা টিম) যোগদান করে। সে আনসার আল ইসলামের দাওয়াত পাওয়ার পরে সংগঠনটির পক্ষে দাওয়াতি কাজ করত ও অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করত বলে জানা যায়। এছাড়াও এসএম মাহাদী হাসান@গোলাম রাব্বী সংগঠনটির ইয়ানত কালেকশন করত বলে স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।