জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকতে পারে সেই বাড়ীর বাড়ীওয়ালা

377

বিশেষ সংবাদদাতা: ফতুল্লার থানাধীন দেওভোগ ভূইয়ার বাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এর সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেফতার র্যা ব-১১। গত ১৯ মে (সোমবার) রাতে তাদেরকে আটক করা হয় বলে গণমাধ্যমকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নারায়ণগঞ্জ আদমজীতে অবস্থিত র্যা ব-১১।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন আবু সাঈদ (২৪) ও এসএম মাহাদী হাসান ওরফে গোলাম রাব্বী (২৬)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
২০ মে (সোমবার) গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যা ব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন জানান, র্যা ব-১১ এর আওতাধীন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যা ব-১১ এর একটি আভিযানিক দল ১৯ মে দিনগত রাত ১১টায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আবু সাঈদ (২৪) মূলত ২০১১ সালে আদর্শ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে এবং ২০১৬ নারায়ণগঞ্জ মেরিন একাডেমী থেকে মেরিন বিষয়ে ডিপ্লোমা করে। পড়াশোনার পাশপাপাশি ২০১৫ সালের দিকে অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। ২০১৪ সালে বিভিন্ন মাহফিলে গিয়ে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
পরবর্তীতে ফেসবুকে বিভিন্ন উগ্রবাদী পোস্ট পড়ে এবং ইউটিউব দেখে উগ্রবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। পরবর্তিতে কথিত বড়ভাই এর মাধ্যমে ২০১৬ সালে আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এ যোগদান করে। আনসার আল ইসলাম এ যোগদানের পর সে সংগঠনের দাওয়াতি কাজ করত। সে ফেসবুকে ও অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী লেখা পোষ্ট করত এবং তা শেয়ার করে মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিত।
২০১৭ সালের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে রাইটার্স নোট নামক ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসা শুরু করে। তার ফিল্যান্সিং অফিসে নিয়মিত আনসার আল ইসলামের হালাকা অনুষ্ঠিত হত এবং এই হালাকায় নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও আশেপাশের জেলাগুলো হতে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যগণ উপন্থিত হত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আবু সাঈদ নারায়ণগঞ্জের আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সমš^য়ক হিসাবে কাজ করত। আবু সাঈদ ও এসএম মাহাদী হাসান গোলাম রাব্বী দুজনের বাসা একই এলাকায় হওয়ায় আবু সাঈদের সাথে তার পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে এসএম মাহাদী হাসান গোলাম রাব্বী আনসার আল ইসলামে (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) যোগদান করে। সে আনসার আল ইসলামের দাওয়াত পাওয়ার পরে সংগঠনটির পক্ষে দাওয়াতি কাজ করত ও অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করত বলে জানা যায়। এছাড়াও এসএম মাহাদী হাসান গোলাম রাব্বী সংগঠনটির ইয়ানত কালেকশন করত বলে ¯^ীকার করেছে।
এদিকে ভূইয়ারবাগ এলাকায় যে বাসা থেকে ওই জঙ্গীদের গ্রেফতার করা হয়েছে ওই বাসার বাড়ীওয়ালাও গণি হাফেজ এ জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারনা। এলাবাসীর ধারনা একটা বাসা থেকে ওই জঙ্গীরা তৎপরতা চালাবে আর বাড়ীর মালিক বলবে সে কিছুই জানেনা, এটা মেনে নেয়া যায়না। সে অবশ্যই জানেন কিংবা তিনি এর সাথে জড়িত। তাই তিনি এ সমস্ত কর্মকান্ডের কথা সবার কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছেন। কেননা, সবাই জেনে গেলে তিনিও নিজেও ফাঁসবেন, এমনটাই হয়তো ভেবেছিলেন তিনি।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ওই বাড়ীতে জঙ্গীদের কথা র্যা ব জানতে পারলো, কিন্তু বাড়ীওয়ালা জানেনা এটা একাবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসন ও র্যা বের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে ওই বাড়ীওয়াকেও গ্রেফতার করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হউক। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তাকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল তথ্য বেড়িয়ে আসবে। হয়তো তার কাছ থেকে আগামীতে এ জঙ্গী সংগঠনের পরিকল্পনার কথাও বেড়িয়ে আসবে। যারফলে এ দেশকে জঙ্গি মুক্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা হবে।
তারা বলেন, জঙ্গিরা শুধু বাংলাদেশই নয়, তারা গোটা বিশ্ববাসীর শত্রু। ধর্মকে পূঁজি করে ওরা সারা বিশ্বে ধ্বংস যজ্ঞ চালাচ্ছে। আমাদের দেশই এর বাইরে নয়। বিএনপি জামায়াত আমলে এদেশে সিরিজ বোমা হামলা থেকে শুরু হয়ে হলি আর্টিজেমে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় বহু দেশি বিদেশী মানুষের প্রাণ ঝরেছ। ওই জঙ্গিরা যাতে আর কখনো কোনদিন এ দেশে মাথাচারা দিয়ে না উঠতে পারে এ জন্য প্রশাসনকে তৎপর আছে, আমরা চাই আরও তৎপর থাকুক। যাতে আমরা স্বাধীন ভাবে এ দেশে বাস করতে পারি।