সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প যাদুঘরের সাবেক পরিচালক বহুগামী ও নারী লোভী রবীন্দ্র গোপ নারীসহ আটক

541

তুহিন, সোনারগাঁঃঅসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপকে নারীসহ আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যাদুঘরের ভিতরে ডাক বাংলো থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নারীসহ রবীন্দ্র গোপকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আটককৃত রবীন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে এর আগেও অসামাজিক কার্যকলাপের গুরুত্বর অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি তার অফিসের পিছনেই ব্যক্তিগতভাবে একটি বেডরুম তৈরি করে সেখানে নারী নিয়ে এসে অসামাজিক কার্যকলাপ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে। বেলা ১২টার দিকে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারী সন্দেহজনকভাবে ডাক বাংলোর কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই রবীন্দ্র গোপ অবস্থান করেছিল। ভিতরে প্রবেশের পরেই তারা দরজা বন্ধ করে দেয়। তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের সময়ে বাহিরে লোকজনের অবস্থান টের পেয়ে সাবেক পরিচালক রবীন্দ্র গোপ এর সহযোগিতায় ওই নারী কৌশলে পকেট গেইট দিয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে প্রত্য¶দর্শীদের হাতে ধরা পরে। পরে পুলিশে খবর দিলে সোনারগাঁ থানার এস আই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রবীন্দ্র গোপ ও সোনিয়া আক্তার মীম নামে এক নারীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেলা ১১টার দিকে ২৫ বছর বয়সি এক নারী যাদুঘরের সাবেক পরিচালক রবিন্দ্র গোপের গাড়ী চালক বুলবুল হোসেন ও রশিদ মিয়ার সহযোগিতায় ডাক বাংলোর কক্ষে প্রবেশ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাদুঘরের এক কর্মকর্তা জানান, গত বুধবার রাতে রবীন্দ্র গোপের বড় ছেলের শ্বশুর মারা যান। সংবাদ পেয়ে তার ২ ছেলে ও নাতিরা সেখানে চলে যায়। এ সুযোগে রবীন্দ্র গোপ সকালে একটি মেয়েকে ডেকে নিয়ে যায় তার ডাক বাংলোতে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ে। দীর্ঘ সময় মেযেটি ডাকবাংলো থেকে বের না হওয়ায় তারা সেখানে গিয়ে অসামাজিক কার্যকালাপের সময় হাতে নাতে আটক করে রবীন্দ্র গোপকে। তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখনো সরকারী বাংলোতে বসবাস করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আলমগীর হোসেন ও এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক কবী রবীন্দ্র গোপ ও সোনিয়া আক্তার মীম নামে এক নারীকে আটক করেছি। প্রাথমিকভাবে তারা তাদের দোষ অ¯^ীকার করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে উভয়ে এলোমেলো বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও রবীন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারীর জোড়ালো অভিযোগ উঠেছিলো। তার সাথে রয়েছে বহুগামী নারীদের অনৈতিক সম্পর্ক। কিন্তু তিনি জাদুঘরের পরিচালক হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে সবকিছু ধামা চাপা দিয়ে রেখেছিলেন। আটককৃত রবীন্দ্র গোপ বি-বাড়িয়ার সরাইল থানার উকমাইল গ্রামের মৃত উপেন্দ্র গোপের ছেলে ও সোনিয়া আক্তার মীমের বাড়ি সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের কাঠালিয়াপাড়া গ্রামে।
উল্লেখ, গত ১৭ মে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়। সেদিন থেকে অতিরিক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেব দায়িত্ব পালন করছিলেন মোঃ খোরশেদ আলম। পরবর্তীতে গত ৩ জুন বিসিএস প্রশাসনের উপ-পরিচালক ড. আহমদ উল্লাহ প্রেষনে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে দায়িত্বে থাকা কবি রবীন্দ্র গোপ গত ১০ বছর আগে যাদুঘরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। এরপর কয়েক দফায় চুক্তি নবায়ণ করে তিনি ১০ বছর পার করে দেন। তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি এখনো সরকারী বাংলোতে বসবাস করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে লেকের পাড়ে বিভিন্ন উঠতি বয়সী যুবক-যুবতীরা ঘুবতে গিয়ে সেখানে নারী লোভী রবীন্দ্র গোপের পালিত সন্ত্রাসী ও দালালদের ছত্রছায়ায় দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ করতো। আর নারী লোভী রবীন্দ্র গোপের পালিত সন্ত্রাসী ও দালালরা ঐসব যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সেখান থেকে কিছু অংশ রবীন্দ্র গোপকে দিতো। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এসব কার্যকলাপ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশনের লেকের পাড়ে ঘটে আসছিলো। কেউ বাঁধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে নারী লোভী রবীন্দ্র গোপের পালিত সন্ত্রাসী ও দালালরা তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে পিকনিকের জন্য জায়গা বরাদ্ধ দেয়ার নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের অর্থ।
এব্যাপারে অভিযুক্ত কবি রবীন্দ্র গোপ জানান, মেয়েটি আমার পূর্ব পরিচিত। সে ডাক বাংলোতে আমার ছেলের গর্ভবতী স্ত্রীকে দেখতে এসেছিলো। আমার ছেলের স্ত্রীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে তাই দেখা হয়নি। ঘটনা এর বেশী কিছু নয়।