সোনারগাঁয়ে ভুয়া রশিদ হাতে ধরিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি

1112

স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় চলছে যানবাহন থেকে একটি চাঁদাবাজ চক্রের অবৈধভাবে চাঁদা আদায়। রশিদ দিয়ে প্রতিটি সিএনজি থেকে ২০ টাকা, বিভিন্ন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা থেকে ১০ টাকা ও বিভিন্ন পর্যায়ের যানবাহন থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে এই চাঁদাবাজ চক্রটি।

সম্প্রতি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে র্যা ব-১১ দুই চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করলেও তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। এতে করে এই সড়কে চলাচলরত সবধরনের যানবাহন চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং পূণরায় স্থানীয় প্রশাসনসহ র্যা ব-১১ এর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে সিএনজি দিয়ে যাতায়াতের সময় রশিদ দিয়ে চাঁদা আদায় করতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সিএনজি, অটোরিক্সা ও বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা।

একটি রশিদ বহিতে দেখা যায়, বাংলাদেশ অটোরিক্সা শ্রমিকলীগ (অটোরিক্সা ও অটো টেম্পু চালকদের সমš^য়ে গঠিত)। গভঃ রেজি নং বি-২০৪৪ শাখা অফিস মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা, আঞ্চলিক কমিটি সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, পরিচালনা ব্যয় আদায় রশিদ। এখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও আদায়কারীর স্বাক্ষরের স্থান থাকলেও কারো কোনই স্বাক্ষর নেই এতে। নেই কারো নাম ঠিকানাও। চাঁদা আদায়ের বিবরণে লেখা রয়েছে, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ২ টাকা, আঞ্চলিক কমিটি পরিচালনা খরচ ৩ টাকা, আদায়কারী ৩ টাকা, যানজট নিরসনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের বেতন ২ টাকা। মোট ১০ টাকা আদায় করা হয়। অপরটাতেও একই রকম লিখা রয়েছে, শুধুমাত্র শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ৪ টাকা, আর আঞ্চলিক কমিটি পরিচালনা খরচ ৬ টাকা, আদায়কারী ৬ টাকা, যানজট নিরসনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের বেতন ৬ টাকা। মোট ২২/- টাকার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ২০/- টাকা। তবে অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকরা দাবী করেছেন প্রায় সময় ১০ টাকার বদলে ২০ থেকে ৩ শত টাকা পর্যন্তও চাঁদা আদায় করা হয়।

চালকরা জানান, চাঁদার রশিদ হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় রাস্তার মাঝে গাড়ি থামিয়েই। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা, গাড়ি আটকে রাখাসহ নানা হয়রানি করা হয়। অনেক সময় গাড়ির গ্লাস ভাংচুরসহ চাকার হাওয়াও ছেড়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, রশিদের মাধ্যমে প্রতিদিন দু’বার করে তাদের কাছ থেকে এ সংগঠনটি চাঁদা আদায় করে থাকে। তাদের কল্যাণে এ টাকা ব্যয় করার কথা থাকলেও কোথায় যায় এ টাকা তারা বলতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, সোনারগাঁয়ে তিন থেকে চারটি লাইন রয়েছে। সেখানে প্রায় সহ¯্রাধিক সিএনজি চলাচল করে। এ লাইনগুলোতে ১০-১২জন শ্রমিক টাকা উত্তোলন করে থাকে। ২০/- টাকা ও ১০/- টাকা করে হলেও প্রতি মাসে ৬ লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি করা হয় মোগরাপাড়া চৌরাস্তায়। তাই দ্রুত এসব চাঁদাবাজ চক্রের চাঁদাবাজি থেকে মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি কামনা করেছেন এবং পূণরায় স্থানীয় প্রশাসনসহ র্যা ব-১১ এর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে টাকা আদায়ের রশিদে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় বাংলাদেশ অটোরিক্সা শ্রমিকলীগের শাখা অফিসের কথা উল্লেখ থাকলেও চৌরাস্তায় খোঁজ নিয়ে এমন অফিসের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে লাইনম্যান আনিছুর রহমান আনিছ জানায়, রশিদ দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলিত টাকার একটি অংশ যানজট নিরসনে ব্যয় হয়ে থাকে। তাছাড়া এ টাকা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের কল্যাণেও ব্যয় করা হয়। এ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাদের চেনেন না বলে জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবীর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, উপজেলার মোগড়াপারা চৌরাস্তা এলাকায় যেসব চাঁদাবাজরা ভুয়া সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ভুয়া রশিদ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন পরিবহন ও চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে, তাদেরকে জরুরীভাবে আইনের আওতায় নেয়া হোক এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হোক।

সোনারগাঁ উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, এটা একটি ভুঁইফোড় সংগঠন। তবে এই চাঁদাবাজি সোনারগাঁ শ্রমিকলীগ সমর্থন করে না। তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।