শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক মোঃ ফজলুর রহমানসহ ৬ জন গ্রেফতার

349

সময়ের চিন্তা ডট কমঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা হতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম ধর্ষক মোঃ ফজলুর রহমানসহ ০৬ জন গ্রেফতার করে। র্যা ব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন-শৃক্সখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাগব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণের মত মানবতা বিধ্বংসী অপরাধ সমাজে মহামারী আকার ধারণ করেছে। উক্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে র্যা ব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

গত ০৬ আগস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে রাত ১০৩০ ঘটিকায় বোরকা পরিহিত অবস্থায় এক ব্যক্তি র্যাাব-১১ অফিসে এসে এই মর্মে একটি অভিযোগ দেয় যে, তার মেয়ে বর্তমানে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং মসজিদের ইমাম কর্তৃক ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ইমামের অনুসারীরা আমার মেয়েকে ও আমাকে মেরে ফেলার জন্য বার বার হাসপাতালে গিয়ে খুঁজছে। ঘটনা শুনার পর তাৎক্ষণিকভাবে র্যা ব-১১ এর একটি অভিযানিক দল ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যায়। ভিকটিম ও তার পরিবারের সাথে কথাবলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে হাসপাতালে তাদের নিরাপত্তায় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করে। এরপর আভিযানিক দলটি ঘটনার স্থল পরিদর্শন ও ধর্ষককে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ০২ দিনের প্রচেষ্টায় অদ্য ০৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখ সকাল ০৬০০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন উত্তর চাষাড়া চাঁনমারীস্থ এলাকা হতে ধর্ষক মোঃ ফজলুর রহমান @রফিকুল ইসলাম(৪৫), পিতা-মৃত রিয়াজ উদ্দিন, সাং-সরাপাড়া, থানা-কেন্দুয়া, জেলা-নেত্রকোনা’কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বয়স ০৮ বছর সে মাদ্রাসায় ২য় শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। শিশুটি রাতের বেলায় বিভিন্ন প্রকার দুঃস্বপ্ন দেখে কান্না কাটি করত। বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ায় ভিকটিমের বাবা জানতে পারে যে, অভিযুক্ত মোঃ ফজলুর রহমান @ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ দিন যাবৎ ঝাড়ফুঁক ও পানিপরা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিমের বাবা ভিকটিমকে এর আগে ০২ থেকে ০৩ বার ধর্ষক ফজলুর রহমানের কাছে ঝাড়পুক পরিয়ে নেয়। তারপরও তেমন উপকার না হওয়ায় ধর্ষক ফজলুর রহমান ভিকটিমের বাসায় গিয়ে “বাড়ী বন্দি” নামক চিকিৎসা করে আসে। ঘটনার আগের দিন মাগরিবের সময় ভিকটিমের বাবা ধর্ষক ফজলুর রহমানকে ফোন দিয়ে মেয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে আসাতে চাইলে সে পরের দিন ফজরের আযানের সাথে সাথে মসজিদে আসতে বলে। কথা অনুযায়ী
পরের দিন সকালে ভিকটিমের বাবা মেয়ে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে চলে আসে। ফজরের নামাজের পর ধর্ষক শিশুটি তার বাবাকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের বেড র“মে নিয়ে যায়। এরপর হালকা ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের বাবাকে ভোর ০৫২০ ঘটিকার দিকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাহিরে পাঠিয়ে দেয়। ঐ সময় দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা কোনো ভাবেই মমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না। এরমধ্যে সময় ক্ষেপন কারর জন্য ধর্ষক ফজলুর রহমান শিশুটির বাবাকে ফোন করে ১টি পান আনতে বলে ও মসজিদের মোয়াজ্জিন কে ফোন করে নিচের গেটে তালা মারতে বলে। ভিকটিমের বাবা ফিরে আসতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় নেয়। এর মাঝে শিশুটির দুই হাত পিছনে বেধে ও মুখে টেপ মেরে নির্মমভাবে পাশবিক নির্যতন করে তার কাম লিপ্সা চরিতার্থ হাছিল করে এবং প্রমান মুছে ফেলার জন্য মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিস্কার করে দেয়। এরপরে শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা মাকে না বলার হুমকি দেয় এবং বললে জবাই করে ফেলবে বলে হুশিয়ার করে। শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয়। এর পরে শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সবকিছু খুলে বললে এবং ধীরে ধীরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়া শুর“ করলে ভূক্তভোগী পরিবারটি শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশে পাশের ধর্ষকের কিছু ভক্ত মিলে সেখানেও শিশু ও পরিবারটিকে মারাত্বক ভাবে হেনস্থা করে। ধর্ষক ফজলুর রহমান তার অনুসারীদের দিয়ে এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যে, ভূক্তভোগী পরিবারটি যেন থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে। এরপর শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হলে শিশুটিকে নিয়ে শিশুটির পরিবারটি নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চুপি চুপি ভর্তি করলে। ধর্ষক ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করার উদ্দেশ্যে কয়েক দফায় চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের ধর্ষকের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবামাকে দীর্ঘসময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে এরই এক পর্যায়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের নার্স এর বোরকা পড়ে র্যাাব অফিসে এসে অভিযোগ দেয়। শিশুটিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা ও পরিকল্পনার সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে ধর্ষকের অনুসারী
আসামী ১। মোঃ রমজান আলী, ২। মোঃ গিয়াস উদ্দিন, ৩। হাবিব এ এলাহী @হবি ৪। মোঃ মোতাহার হোসেন ও ৫। মোঃ শরিফ হোসেনকে ফতুল­ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বির“দ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।