চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী জাকির গ্রেফতার

356

সময়ের চিন্তা ডট কমঃ র্যা বের অভিযানে নরসিংদীর শিবপুর থানার চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী জাকির হোসেন গ্রেফতার করে।র্যা ব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন-শৃক্সখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র্যা ব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের মত মানবতা বিধ্বংসী অপরাধ সমাজে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উক্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে র্যা ব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যা ব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাত ২১০০ ঘটিকায় নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন সাহেপ্রতাপ মোড়স্থ ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নরসিংদী জেলার শিবপুর মডেল থানার বহুল আলোচিত, চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামী মোঃ জাকির হোসেন(৩৭), পিতা- মোঃ সিরাজ উদ্দিন@সের“@সিরাজ মিয়া, সাং-জয়মঙ্গল, থানা-শিবপুর, জেলা-নরসিংদীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর বির“দ্ধে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে গত ০২ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী-২০০৩) ধারা ৭/৯(৩)/৩০ মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০৩ তারিখ ০২/০৮/২০১৯।
গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ, মামলার এজাহার পর্যালোচনা ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় ভিকটিম ১৩ বছরের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকা। ভিকটিম তার পরিবারের সাথে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন বিরাজনগর এলাকায় বসবাস করে আসছে। ভিকটিমের বাবা একজন অটো রিক্সা চালক। ঘটনার দিন গত ২৫ জুলাই ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে রাতে ২৩০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বাহির হলে ঐ সময় পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা আসামী ১। মোঃ জাকির হোসেন ২। মোঃ হযরত আলী, ৩। মোঃ কাজল মিয়া, ৪। মোঃ সেলিম মিয়া ও ৫। মোঃ মনির হোসেন মিলে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক সিএনজি যোগে শিবপুর থানার জয়মঙ্গল গ্রামে ৩নং আসামী কাজল মিয়ার নির্জন বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে জাকির, হযরত, কাজল, সেলিম ও মনির মিলে ভিক্টিমকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। ধর্ষনের পর আসামীরা এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভিক্টিমকে হুমকি দিয়ে বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় গ্রেফতারকৃত ১নং আসামী মোঃ জাকির হোসেনের বাড়ীতে নিয়ে বাড়ীর রান্না ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে আসামীরা পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের মা-বাবা ও চাচা অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাড়ীর রান্নার ঘর থেকে বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে। লোকলজ্জার ভয়ে এবং মেয়ের ভবিষ্যতে বিবাহের কথা চিন্তা করে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে আসামীগণ কর্তৃক উক্ত ঘটনা লোকমুখে জানাজানি হলে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবহিত করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি মীমাংসার আশ¡াস দিয়ে বেশ কয়েকদিন কালক্ষেপন করে। অন্যদিকে আসামীরা ভিকটিমের পরিবারকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান অপারগতা প্রকাশ করায় ভিকটিমের পিতা শিবপুর থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করে।
বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকা অপহরণ ও গণধর্ষণ ঘটনার প্রেক্ষিতে র্যাকব-১১ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িত আসামীদের সনাক্তকরণ ও তাদের গতিবিধি গোয়েন্দা নজরদারী করাসহ উক্ত ঘটনার মূলহোতা মোঃ জাকির হোসেন ও অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার পর গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাতে নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর মডেল থানাধীন সাহে প্রতাপ মোড়স্থ ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামী মোঃ জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী জাকির অভ্যাসগত ভাবে একজন ধর্ষক বলে জানা গেলেও তার ভয়ে অনেকেই আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পায়নি।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বির“দ্ধে নরসিংদী জেলার শিবপুর মডেল থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।