নবীগঞ্জ ঘাটের যাত্রী ছাউনীর বসার মেড ভেঙ্গে দোকান নির্মান, নাসিক নীরব ভুমিকায়

417

আশিকুজ্জামান, সময়ের চিন্তা ডট কমঃ বন্দর নবীগঞ্জ ঘাটের যাত্রী ছাউনীর বসার মেড ভেঙ্গে দোকান নির্মান করছে ভুমি দস্যুরা কিন্রু রহস্যজনক কারনে নাসিক নীরব ভুমিকায় আছে বলে জানায় এলাকার লোকজন। নাসিক ২৪ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আফজাল হোসেনের রহস্যজনক নীরবতার কারনেই জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে বলে জানায় এলাকাবাসী। তাকে তার মোবাইল ফোনে কল করে বা তার অফিসে গিয়েও অনেক সময় পাওয়া যায় না। জনদূর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে পৌছালেও কোন দপ্তরের টনক নড়ছে না।

স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমান ফেরী সার্ভিস চালু হওয়ার কারনে দূর্ভোগ দ্বিগুন হলেও নীরব নাসিক কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ করলে দূর্ভোগ লাগব হবে যার সুনাম লাগবে এমপি সেলিম ওসমানের  পালে। তাই উচ্ছেদ পরিচালনা করছে না সিটি মেয়র আইভী। কাউন্সিলর আফজাল হোসেনের গাফলতি আছে বলেও জানায় অনেক এলাকাবাসী। তবে এ বিষয়ে নাসিক ২৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর ও মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান বলেন, ঘাটের সার্ভিক বিষয়ে এমপি সাহেব দেখার দায়িত্ব দিলেও আমাদের কিছু লোকের কারনে তা করতে পারছি না।

বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে কি বলব, সিটি কর্পোরেশন নীরব কেন তাও বলতে পারছি না। তবে আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় সেলিম ওসমান ভাইকে বিষয়টি বলব, তারপর দেখি কি করা যায়। উল্লেখ্য যে, বন্দরের নাসিক ২৪ নং ওর্য়াডস্থ নবীগঞ্জ ঘাটের যাত্রী ছাউনীর বসার মেড ভেঙ্গে দোকান নির্মান করছে অনু নামের এক ব্যাক্তি। সিটি কর্পোরেশন থেকে লিজ এনে দোকান নির্মান করছে বলে অনুর লোকজনের দাবী। তবে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেনি অনুর লোকজন। ছাউনীর মেড ভেঙ্গে দোকান নির্মান নিয়ে সর্ব মহলে চলছে নানা আলোচনা আর সমালোচনা ঝড়। সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী জনস্বার্থে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার, আর ঘাটের বসার মেড ভেঙ্গে দোকান নির্মান করার বিষয়ে তার নীরবতাকে ভাল দৃষ্টিতে দেখছেন না সচেতনমহল ও নগরবাসী।

কে এই অনু, তার খুটির জোড় কোথায়?? যাত্রীদের ছাউনিটি নামে মাত্র।তাও দখল করে রেখেছে একটি মহল। তারপর আবার ছাউনির বসার মেড ভেঙ্গে দোকান নির্মান নিয়ে সর্বত্র আলোচিত হলেও মেয়র নীরব। উচ্ছেদ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরন নদীর পশ্চিম পাশে উচ্ছেদ করলেও পূর্বপাশ নিয়ে নীরবতাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন স্থানীয় লোকজন। মেড ভাঙ্গার অপরাধে কয়েক বছর পূর্বে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে নাসিকে। স্থানীয় এক লোক মেড ভাঙ্গার অপরাধে এ টাকা দিতে হলেও অনুর বিষয়ে নীরব কেন নাসিক, প্রশ্ন এলাকাবাসীর।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীগঞ্জ ঘাটটি বর্তমানে অন্য ঘাটের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ। নদী পথে ইঞ্জিন চালিত নৌকার পাশাপাশি ফেরি সার্ভিস চালু। প্রতিদিন ফেরি দিয়ে ছোট-বড় হাজার হাজার যানবাহনসহ যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। যাত্রীদের জীবনের ঝুকি নিয়ে ঘাট পারাপার হলেও দেখার যেন কেউ নেই। নেই ভাল মানের কোন যাত্রী ছাউনি। যে যাত্রী ছাউনি রয়েছে তাও ঝুঁকিপূর্ন আবার দখল করে রেখেছে বিভিন্ন ফলের দোকান, নিমকি, পিডিসহ নানা প্রকার দোকানে। স্থানীয় কতিপয় অসাধু চক্র ঘাটের (সিটির) জায়গায় প্রায় ২০/২৫ টি অবৈধ দোকান বসিয়ে মাসে ৬/৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে যাত্রী ছাউনির ছাদের ইট পরে শারমিন (২৮) নামের এক মহিলা আহত হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও দেখার যেন কেউ নেই।ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর নারায়নগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ঘাটের তদারকি করার জন্য কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান ও বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদকে দায়িত্ব দিলেও বাস্তবিক তাদের কোন দেখা পাওয়া যায়নি।

মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী উচ্ছেদ করলে যাত্রীদের দূর্ভোগ লাগব হলে আর ভএমপির সুনাম হবে তাই যেন উচ্ছেদ পরিচালনা করছে না নাসিক। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী এ বিষয়টা নাও জানতে পারে। তবে অবৈধ দোকানদারদের কারনে নানামুখী দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে সাধারন লোকজন। বন্দরের ২৪ নং ওর্য়াডস্থ নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাটের পশ্চিম পাশে অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ করলেও বহাল রয়েছে নবীগঞ্জ ঘাট এলাকার প্রায় ২০/২৫ টি দোকান। দোকান প্রতি মাসে ৬/৭ হাজার করে টাকা নেয় স্থানীয় একটি আসাধু চক্র।

নাসিক কর্তৃপক্ষের দাবী উচ্ছেদ অভিযান চলছে যা চলমান। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরন বলেন, মেয়র বরাবর এলাকাবাসী আবেদন করলে উচ্ছেদ কার্যক্রম দ্রুত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২৪ নং ওর্য়াডের একাধিক ব্যাক্তি জানান এ দোকানগুলোর বিষয়ে মেয়র বরাবর আবেদন করা হয়েছে। তারপরও রহস্যজনক কারনে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না নাসিক কর্তৃপক্ষ। হাজীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীরবর্তী জায়গায় উচ্ছেদ হলেও নদীর পূর্বপার নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর দাবী এলাকাবাসীর।

এ ব্যপারে মেয়র আইভী্কে ০১৭১৪০৩৩০১১ এই নাম্বারে কল করলে তিনি কল রিচিভ করেননি। মোঃ আবুল হোসেন পিএ টু মেয়র নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মোবাইল: ০১৯১৫৯২০৩৩৫ এই নাম্বারে কল করে পাওয়া যায়নি। জনাব ইশরাত জাকিয়া সহকারী সচিব নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মোবাইল নং ০১৭১৬৮৮৩১৫৬ কল করলে তিনি জানান, এই সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি।