তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে-স্পিকার

301

সময়ের চিন্তাঃতথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোন অসত্য তথ্য বা ফেইক নিউজ সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট দিয়ে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি না করি সেদিকে সকলকে সর্তক থাকতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে মানিক মিয়া এভিনিউতে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সত্য মিথ্যা যাচাই আগে ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এবারের তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে মানিক মিয়া এভিনিউতে র‌্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সকলের জন্যই তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারটি অনেকটাই নতুন। আমরা এর সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি, সে কারণে যে কোনো কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যাতে অসত্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা লেখা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন পোস্ট দিয়ে আমরা যেন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অংশীদার না হই বা কোন ধরণের অস্থিরতা বা অস্থিতিশীলতা যাতে তৈরি না হয়। সে বিষয়টির প্রতি আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোন অসত্য তথা যেমন পরিবেশন করা যাবে না। তেমনকি কোন তথ্যের সত্যতা যাচাই করারও প্রয়োজন রয়েছে। এখন যাচাই প্রক্রিয়াটি খুব বেশি কষ্টসাধ্য নয়। কাজেই আমাদের সামনে যখন কোন খবর বা কোন মেসেজ বা কোন বিষয় উপস্থাপিত হয় তখন সত্যতা যাচাই করে নিতে পারি। সে ব্যাপারে যদি কাজ করতে পারি তাহলে অসত্য তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে যে ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ও ঘটনা ঘটবে সেগুলো প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব। এজন্য ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ফেইক নিউজ প্রচারের বিষয়টি শুধু বাংলাদেশেই নয় সমগ্র বিশ্বেই এটি একটি আলোচিত বিষয়। কিভাবে সেটা থেকে মুক্ত থাকব সে বিষয়টি নিয়ে অনেক ধরণের গবেষণা চিন্তাভাবনা চলছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো ব্যাপকভাবে সচেতন করতে সকলে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।’

সংসদকে ডিজিটাল সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে স্পিকার আরও বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নয়ন আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা যাতে সংসদ গ্রহণ করতে পারে সেজন্য ইতোমধ্যে সংসদকে ডিজিটাল সুবিধার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৬ লাখ, তখন ৪০ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে আর তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এর পরামর্শে মাত্র ১১ বছরের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এখন ৯৫ ঘরে বিদ্যুতায়িত। ইউনিয়ন পর্যন্ত হাই স্প্রিড ব্রডব্যান্ড ফাইবার অপটিক ক্যাবল।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে যখন ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন করেন, তখন ১১০০ টি ইউনিয়নের বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। এখন আমাদের আমাদের ৫ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টারে প্রতিদিন ৬৯ লাখ মানুষ ১৫০ রকমের সেবা গ্রহণ করছে। ফলে সময় ও অর্থ অপচয় রোধ হয়েছে, হয়রানি দুর্নীতি কমেছে। সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ রহমতুল্লাহ।