আশিকুজ্জামানঃনারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিনব কায়দায় পেটের ভিতর ইয়াবা পাচারের দায়ে গ্রেফতার ০২।১ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ও দেড় লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার।র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার আইন শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারীদের গ্রেফতার করতঃ মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজ তথা দেশকে বাচাঁতে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে সকালে র্যাব-১১, সিপিএসসি’র মাদক বিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা হতে ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। মোঃ নাজমুল হক(৪৩)ও ২।নাদিয়া আক্তার(৩১)। পরবর্তীতে নাজমুল হক’কে হাসপাতালে নিয়ে তার পেটের ভিতর হতে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সিদ্ধিরগঞ্জের ভাড়াটিয়া বাসায় তল্লাশী করে ৫০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১,৫২,০০০/- টাকাসহ তার স্ত্রী নাদিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী ও চিহ্নিত মাদক পাচারকারী। মাদক ব্যবসা ছিল তাদের একমাত্র পেশা। তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় পেটের ভিতর ইয়াবা ঢুকিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বাসযোগে নারায়ণগঞ্জে এসে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিয়ে আসছে। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ী চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানাধীন নয়াকান্দি গ্রামে হলেও তারা মাদক ব্যবসার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আটি হাউজিং এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছে।
গোপনসূত্রে জানা যায় চাঁদপুরের একজন ইয়াবা পাচারকারী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে অভিনব কৌশলে বাসযোগে ইয়াবা পাচার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে উক্ত ইয়াবা পাচারকারী একই কৌশলে কক্সবাজার হতে বাসযোগে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল সকাল ০৬৩০ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোডস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোষ্ট স্থাপন করে। চেকপোষ্টে গাড়ী থামিয়ে তল্লাশীকালে কক্সবাজার হতে ঢাকাগামী এস আলম পরিবহনের একটি চেয়ার কোচ থেকে নেমে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দিগ্ধ হিসেবে নাজমুল হক’কে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল হক এর কথা ও আচরণে অসংলগ্নতা ও অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পেলেও ইয়াবা পাচারের বিষয়ে সে অস্বীকার করে। অতঃপর গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার পেটের ভিতর ইয়াবা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের সদর থানাধীন খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে এক্স-রে করে দেখা যায় তার পেটের ভিতর অসংখ্য ডিম্বাকৃতির বস্তু বিশেষ রয়েছে। পরবর্তীতে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত নাজমুল হক স্বীকার করে যে তার পেটের ভিতর কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো ছোট ছোট ৪০টি ইয়াবার পোটলা রয়েছে যার প্রত্যেকটিতে ৪০ পিস করে মোট ১৬০০ পিস ইয়াবা রয়েছে। সে আরও স্বীকার করে যে, কক্সবাজারে এই ইয়াবার পোটলাগুলো সে খাবারের সাথে গিলে খায় এবং পরবর্তীতে কলা এবং পাউরুটি খেয়ে সেই পোটলাগুলো পায়ু পথ দিয়ে বের করে। অতঃপর তাকে কলা এবং পাউরুটি খাওয়ানোর পর হাসপাতালের টয়লেটে গিয়ে তার পায়ু পথ দিয়ে কালো টেপ মোড়ানো ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির ৪০টি পোটলা বের করে দেয়। উক্ত পোটলাগুলো হতে প্রত্যেকটিতে ৪০ পিস করে মোট ১৬০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত আসামী নাজমুল হক এর দেয়া তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী নাদিয়া আক্তার(৩১)’কে গ্রেফতার করা হয় ও তার বাসা থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ-১,৫২,০০০/-টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবে অভিনব কৌশলে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। তাদের নামে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।



