সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টেসে ভাংচুরের ঘটনা,দুই শ্রমিক আহত

316

স্টাফ রিপোর্টারঃসিদ্ধিরগঞ্জে একটি গার্মেন্টেসে শ্রমিক অসন্তোষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া এলাকায় মুনলাক্স কম্পোজিট নীট গার্মেন্টস লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্টে এ ঘটনাটি ঘটে।

২৩ ডিসেম্বর আমিনুল নামে ঐ গার্মেন্টের এক অপারেটরকে বিনা নোটিশে ছাটাই করে কর্তৃপক্ষ। এরই জের ধরে সোমবার সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটায় ছাটাই করা শ্রমিক আমিনুলের সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গার্মেন্টসে ভাংচুর চালায়। এতে গার্মেন্টটির জিএম মনির ও দুই শ্রমিক আহত হয়েছে।

আহত তিন জনের মধ্যে দু’জনকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গার্মেন্টের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এসময় গার্মেন্টের অফিসকক্ষ, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কক্ষ ও সম্মেলন কক্ষ ভাংচুর করে।

শ্রকিমরা জানায়, গার্মেন্টের গ্রুপ জিএম হুমায়ুন ২২ ডিসেম্বর বহিরাগত লোক এনে শ্রমিক আমিনুলকে গার্মেন্টে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আটকে রাখে এবং হুমকি দিয়ে তাকে ছাটাই করে দেয়।

সোমবার সকালে শ্রমিকরা আমিনুলের ছাটাই আদেশ প্রত্যাহারের জন্য গ্রুপ জিএম হুমায়ুনকে অনুরোধ করলে  তিনি শ্রমকিদের গালমন্দ করতে থাকে। এতে ক্ষুব্দ হয়ে পড়ে শ্রমিকরা। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ভাংচুর করতে থাকে।

গার্মেন্টের মালিক মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানায়, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গার্মেন্টে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে গার্মেন্টের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যপারে তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানায়।

বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাটাইয়ের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঐ শ্রমিক স্বেচ্ছায় এ মাসের পর চাকুরী করবেনা বলে জানানোর পর তার পাওনাদি আমরা তাকে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সে পাওনাদি পাওয়া সত্বেও আরো ২৫-৩০ জনকে অগ্রীম তিন মাসের পাওনা নিয়ে বের হয়ে যেতে আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছিলো।

আমরা তাদের কথায় রাজী না হওয়ায় তারা ভাংচুর করে এবং জিএমকে মারধর করে। এতে তার ৪ জন কর্মকর্তা আহত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানায়, গার্মেন্টের বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছে। আমরা মালিকপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলছি। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো মেনে না নিলে এবং শ্রমকিরা অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।