রূপগঞ্জের কাঞ্চনে অবৈধ ইটভাটাগুলো চলমান রয়েছে

573

স্টাফ রিপোর্টারঃউচ্চ আদালতে গত বছরের ২৬ নভেম্বরের রিট পিটিশন নং- ৯১৬/১৯ তারিখের শুনানির প্রেক্ষিতে ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ ৫টি জেলায় অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বন্ধ করার আদেশ দিলেও রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে গড়ে উঠা অবৈধ ইটভাটাগুলো চলমান রয়েছে।

এ ইটভাটাগুলো বন্ধ করতে ভূক্তভোগী মো. আলমগীর হোসেন কাঞ্চন পৌরসভা এলাকাবাসীর পক্ষে চলতি মাসের ৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, রুপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বরাবর আবেদন করেছে।

এদিকে অবৈধ ইটভাটা চলমান করতে কাঞ্চন পৌরসভা ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের ইটভাটার মালিকরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, যাহার নং-৩৬৭৩/১৯। আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত শুনানি অন্তে আপিল খারিজ করে দেয়। এরপর ইটভাটা মালিকরা উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বহাল তবিয়তে পরিবশে বিনষ্টকারী ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলে, ইটভাটাগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও যারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেই ইটভাটাগুলো চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মঈনুল হক জানায়, পর্যাপ্ত লোকবল ও ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় সব সময় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে প্রতিমাসে একবার ঢাকা থেকে ইনফোর্সমেন্ট ফোর্স আসে তাদের নিয়ে এখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাঞ্চনের অবধৈ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসী সুস্থ্যস্বাভাবিক পরিবেশকে বিনষ্টকারী ইটভাটার কালো ধোয়া ও ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে ইটভাটাগুলো বন্ধের জোর দাবি জানান। ইটভাটার কারনে এলাকার তিন ফসলি জমি ও এলাকাবাসীর স্থাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও ইটভাটা স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডার ও বিরাবো বাজার ও কিন্ডার গার্ডেনের কাছাকাছি থাকায় মারাত্মক বায়ূ দূষণ হয়ে পড়ছে এবং ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব অবৈধ ইটভাটা নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটা চালানো রহস্যজনক। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসিনতাকে তারা দায়ি করেন। এর আগে, ইটভাটাকে কেন্দ্র করে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও এলাকাবাসীর উপর হামলার কর্মকান্ডের থানায় মামলাও হয়।

তারা আরো জানায়, ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা দম্ভোক্তি দিয়ে এগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে তাদের ইটভাটা উচ্ছেদ হবেনা।

জানা গেছে, কাঞ্চন পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে তারাইল ও বিরাবো অবস্থিত ১৫ টি ব্রিক ফিল্ড ২০১৩ ও ২০১৯ সালের বিধান মোতাবেক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তিনফসলীয় জমিতে স্থাপনা না করার জন্য নিষেধ থাকার পরও কাঞ্চন পৌরসভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্যক্রমে তিনফসলীয় জমিতে ইটের ভাটায় স্থাপন করিয়া জমির নষ্ট করছে।

ইটভাটা গুলোর মালিক হলো- মো. আলীম উদ্দিনের বি.আর. বি-১, এ. আর. বি -১ ও ২, পনির হোসেনের এন.আর.বি ও বি. আর. বি-২, মোশারফ হোসেনের এম.আর.বি, দেলোয়ার মোল্লার এম.এম.কে ও পি.আর. বি, সামসুদ্দিনের এম.টি.ভি, আঃ ছাত্তারের আর.বি.এম, জামিলের এইচ.এস. বি, নাসির উল্লাহর এম.বি.বি, আজিজুল মিয়ার আর.কে.বি, আতাউর রহমানের এম,এইচ,আর, ইলিয়াস জাকারিয়া জুয়েলের কে.বি.এম।

প্রসঙ্গত, মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন মাননীয় বিচারপতি জনাব এফ.আর.এম নাজমুল হাসান ও কে.এম কামরুল কাদেরদ্বয় গত ২৬ নভেম্বরের রিট পিটিশন নং- ৯১৬/১৯ তারিখের শুনানির প্রেক্ষিতে ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ ৫টি জেলায় অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বন্ধ করার জন্য আদেশ প্রদান করে।