লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছে ১৪৮ জন বাংলাদেশি

394

সময়ের চিন্তাঃ লিবিয়া থেকে ১৪৮ জন বাংলাদেশি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র ভলান্টারি হিউম্যানাটেরিয়ান  রিটার্ন (ভিএইচআর) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে দেয়া সহায়তার মাধ্যমে তাদের ফেরানো হয়েছে। অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ ভাড়া করা বিমানের ব্যবস্থা করে আইওএম। মঙ্গলবার লিবিয়ার মিসারত বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে বুধবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিমানটি। ফিরে আসা অভিবাসীদের মধ্যে আছেন যুদ্ধে আহত, সমুদ্র পথে ইউরোপ যেতে ব্যর্থ এবং লিবিয়ার জেলে বন্দি থাকা অভিবাসীরা। আইওএম এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে, ত্রিপলিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, একটি চাটার্ড ফ্লাইটে যে ১৪৮ জন বাংলাদেশীকে দেশে ফেরানো হয়েছে তারা মূলত ত্রিপলীতে চলমান যুদ্ধের কারণে স্বেচ্ছায় ফিরেছেন। তাদের মধ্যে ত্রিপলীতে ড্রোন হামলায় আহতসহ ৯ জন অসুস্থ প্রবাসী রয়েছেন।

এছাড়া ওই ফ্লাইটে বিভিন্ন ঘটনায় মারা যাওয়া পাঁচজন প্রবাসীর মৃতদেহও দেশে প্রেরণ করা হয়েছে। আইওএম জানিয়েছে, ফিরে আসা অভিবাসীরা আইওএম লিবিয়া থেকে সামাজিক সেবা, তাৎক্ষণিক সেবা, ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বাংলাদেশ সরকারের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সহায়তা পেয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে আইওএম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাড়ি ফিরতে প্রত্যেকে ৪৭৩০ টাকা, খাবার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মানসিকসেবা পেয়েছেন। আগামীতে এই অভিবাসীদের অর্থনৈতিক সহযোগিতাও করবে আইওএম। যাতে তারা বাংলাদেশে আয় করে জীবন চালাতে পারে। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের মো. আকবর চার বছর আগে লিবিয়া গিয়েছিলেন পরিবারের ভাগ্য বদলাতে। তিনি বলছিলেন, গ্রামের দালাল ধরে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। বেতন ছিল খুবই কম। কোনোমতে নিজে চলতে পারতেন। যে কারখানায় আকবর কাজ করতেন হঠাৎ বিমান হামলা হয় সেখানে। ৪ বাংলাদেশিসহ ১৩ জন মারা যান। আকবর বলছিলেন, সে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। মনে হলো অল্পের জন্য জীবনটা বাঁচলো। সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে ফিরে আসবো। এরপর লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস হয়ে আইওএম’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন আকবর। স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বুধবার ১৪৮ জনের সঙ্গে আকবর দেশে ফেরেন। তিনি বলেন, এ এক বিরাট উপকার। কারণ আইওএম’র মাধ্যমে জীবন নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছি। প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে ৮ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি আছেন। অসুস্থ ব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির জন্য সহায়তা করা হয়েছে। আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন গিওর্গি গিগাওরি বলেন, লিবিয়ার প্রতিকূল অবস্থা অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশিদের সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে সর্বদা আমরা তৎপর। যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাদের তাৎক্ষণিক সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করছি আমরা। একই সঙ্গে ফিরে আসা অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাও করবো আমরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, বাংলাদেশ সরকার ও লিবিয়া কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ শ’রও বেশি বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে সহযোগিতা করছে আইওএম। বিশ্বব্যাপী ভিএইচআর প্রোগ্রামটির সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা দিয়ে থাকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।