সোনারগাঁয়ের মানবিক ইউএনও সাইদুল ইসলাম ঠিকাদারের গ্যাঁড়াকলে

343

সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের পেছনে উঠেপড়ে লেগেছে একটি চক্র। করোনাকালীন সংকটে যখন ইউএনও সাইদুল ইসলাম ব্যাপক কাজে সম্পৃক্ত তখন তাকে সোনারগাঁ থেকে সরানোর জোড়ালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এই চক্র।  তারই অংশ হিসেবে সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে এক ঠিকাদার। করোনাকালে সাইদুল ইসলামের কর্মগুনে মানবিক ইউএনও হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সোনারগাঁবাসী। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৫ জুন ইউএনও এর ব্যবহৃত নিজের ফেসবুক পেজে এ ঘটনার আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন।
ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকা মারফত অবগত হয়েছেন যে, আপনাদের ইউএনও একজন মহা দুর্নীতিবাজ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগটির আদ্যোপান্ত ও প্রকৃত ঘটনা আপনাদের একজন সেবক হিসেবে আপনাদের জ্ঞাতার্থে সবিনয়ে তুলে ধরছি। যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি একজন ঠিকাদার। দুধঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চারকক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা একটি টিনশেড ভবন নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা ২৫,৫০০ টাকায় নিলামটি পেয়েছেন। যিনি দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তিনি দর দিয়েছিলেন ২১,০০০/- টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামটি সরকারিভাবে প্রদান করে ২৫,০০০/- টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। যিনি অভিযোগ করেছেন সেই ঠিকাদারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আপনাদের জন্য তুলে ধরছি।
অভিযোগে নাম ব্যবহার করা হয়েছে মোঃ মোরশেদ কিন্তু মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে মোজাম্মেল হক এর (০১৮১২-১৫২৮৮১)। ২০১৮ সালে কাঁচপুর হাইওয়ে থেকে মোশারফ চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ না করেই বিল দাখিল করেন পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও গ্রামের ঠিকাদার মোঃ মোজাম্মেল হক এবং তাকে বিল না দেওয়ায় দুদকে মিথ্যা অভিযোগ করে সোনারগাঁয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করান। স্কুলে অতিব নিম্নমানের কাজ করায় এবং সঠিকভাবে কাজ বুঝে নিতে চাওয়ায় শাহচিল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে থানায় জিডি দায়ের করেন। কাজ না করে বিল দাখিল করার কুখ্যাতি রয়েছে উক্ত ঠিকাদারের। আপনাদের কাছে আমার ছোট্ট একটি প্রশ্ন সোনারগাঁয়ের ইউএনও যদি দুর্নীতি করতেই চায় তবে তাকে ৪ হাজার ৫ শ টাকার দুর্নীতি করতে হবে?
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদুক) দেয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার চারটি সরকারি প্রাথিমিক বিদ্যালয়ের মালামাল নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিডিউল ক্রয় করে দরপত্র কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন মোরশেদ। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে শহিদুল ইসলাম নামে ব্যক্তির নামে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
আরও জানা যায়, প্রকাশিত নিলাম বিঞ্জপ্তির শর্তাবলী ও নিয়মাবলী যথাযথ অনুসরণ না করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস সরকারি অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যে অনৈতিক ও সরকারি স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র এবং ভিশন ২০২১ এর সুষ্ঠ ও পরির্র্পুণ বাস্তবায়ন তথা সোনার বাংলা বিনির্মাণে সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরনে জননিরিাপত্তা বিধান ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় অবিলম্বে এ দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহবানের অনুরোধ জানিয়েছে মো. মোরশেদ। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করবে। সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ যে কেউই করতে পারে। সরকারি নিয়ম মেনেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো. মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, দরপত্র আহ্বানের সময় ৩টি শর্ত ছিল। আমি দর দিয়েছি ২১,০০০ টাকা। কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতা ২৫,৫০০ টাকায় নিলামটি পেলেও তিনি শর্ত পূরণ করেনি। এতে তার দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা ছিল। অথচ, ইউএনও নিলামের পর শর্ত সংশোধন করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামটি দিয়ে দেয়। নিলামের পর শর্ত সংশোধন করতে পারে কি না? এ উত্তর জানতেই আমি দুদকে অভিযোগ করেছি। এছাড়া রাস্তা ও স্কুলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উপরস্থ কর্মকর্তারা তখন তদন্ত করে আমার কোন অপরাধ পায়নি। পরে আমাকেই কাজ করতে দেয়া হয়েছিল। সে বিলও আমি তুলেছি। সব তথ্য প্রমান আমার কাছে আছে।
অপরদিকে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা ঠিকাদারের গ্যাঁড়াকল মাত্র। মোজাম্মেল হকের পিছনে অন্য কেউ আছে। আমার কার্যক্রমে যাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়। সেই চক্রটি তার পিছনে কাজ করছে। দরপত্র আহ্বানের শর্তে এটাও আছে কর্তৃপক্ষ চাইলে নিলাম বাতিল কিংবা শর্ত সংশোধন করতে পারে। সেই অনুযায়ী আমি শর্ত সংশোধন করাছি। মোজাম্মেল হক সব সময় পুলিশ, দুদক নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তাই আমি এই ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য ইতমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ায় প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি।