সোনারগাঁ পৌরসভায় সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

59

মোক্তার হোসেনঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভায় সড়ক নির্মাণের কাজে সম্পূর্ণ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ না করার শর্তে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।

প্রায় ২৫ হাজার মানুষসহ শতশত শিক্ষার্থীদের চলাফেরা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার উদ্ধবগঞ্জ কুশিয়ারা মার্কেট এলাকা থেকে ষোলপাড়া-ভট্টপুর দিয়ে যাতায়াতের প্রধান সড়কটি ওই এলাকার মানুষের স্বপ্ন। খানাখন্দে ভরা দীর্ঘদিন ভোগান্তির পরিসমাপ্তির সুফল হিসেবে প্রায় দুইযুগ পর সড়কটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সোনারগাঁ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিয়াজ মোর্শেদের উপস্থিতিতে   সম্পূর্ণ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে অসন্তুশ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সোনারগাঁ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’র কাজ শুরু হয় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে। প্রকল্পের আওতায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ড্রেন। ড্রেনের নির্মাণকাজ পেয়েছে মেসার্স মাসুদ হাইটেক ইন্জিনিয়ারিং লিঃ। সাড়ে ১৩ ফুট প্রশস্ত ও ১০ ফুট গভীরতায় ড্রেনটি নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা নির্মল শাহা বলেন, দীর্ঘদিন পর আমাদের এই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজটি করা হচ্ছে। সোনারগাঁ পৌরসভায় বর্তমানে মেয়র না থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। একজন ইউএনও দায়িত্বে থাকাকালীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি মেনে নেয়া কোন ক্রমেই সম্ভব নয়।

এবিষয়ে সোনারগাঁ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিয়াজ মোর্শেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে নারাজ হলেও উপস্থিত এলাকাবাসীর রোশানলে পড়ে কথা বলতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ল্যাবে টেস্ট করেই এসকল সামগ্রী দিয়ে আমরা কাজ করছি। উল্লেখ্য, গণমাধ্যম কর্মীরা স্পট থেকে চলে আসার পর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে কতৃপক্ষ। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ এলাহী জানান, সড়কটি নির্মাণ কাজে যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।