১০ম শ্রেণির ছাত্রী নিতুর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন মঞ্জরুল হাফিজ

86

আল আমিন নূরঃ নারায়ণগঞ্জে ১০ম শ্রেণির রোল ৩ ছাত্রীকে বিশেষ বেতন দিতে না পারায় নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩ বিষয়ে ফেল করিয়ে দেয়ার সেই নিতুর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজ। ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, মেয়েটিকে সামনের ৩/৪ মাস ভালভাবে পড়াশোনা করতে বলা হয়েছে। নিতুর এইচ এস সি পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন।

তথ্যসুত্রে, বিশেষ ক্লাসের ১২ মাসের বেতন ৬ হাজার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নিতুকে নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩ বিষয়ে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক লায়লার বিরুদ্ধে। এর আগে নির্বাচনী পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ৪৫ মিনিট আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালাগালও করা হয়। স্কুল শিক্ষকের এহেন আচরণে ঐ ছাত্রী মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। শিক্ষার্থী  ও তারা বাবা এ কথা গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।  ২০২৩ সালে অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে ১লা ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার স্কুল ছাত্রী নিতু নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আজিজুল হকের কাছে লিখিত আবেদন করে। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনা খতিয়ে দেখতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

লিখিত আবেদনে সূচনা দাস নিতু নামের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের (রোল নং-৩) ঐ ছাত্রী উল্লেখ করে, গত ৮ নভেম্বর স্কুলে ভুগোল পরীক্ষা চলাকালীন কথিক বিশেষ ক্লাসের ফি ছয় হাজার টাকা না দেওয়ার কারণে নির্বাচনী পরীক্ষার হল থেকে তাকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান সহকারি প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তার। এরপর তাকে বলেন, বিশেষ ক্লাসের বেতন দিতে পারো না তাহলে এই স্কুলে মরতে আসছো কেন? অন্য স্কুলে গিয়ে মরতে পার না। অনেক শিক্ষকের সামনে নিতুকে খুব বাজে ভাবে অপমান অপদস্ত করা হয়। ঐ সময় নিতু বারবার তার পরীক্ষার সময় নষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তাকে পরীক্ষার হলে যেতে দেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু লায়লা কিছুতেই কর্ণপাত করেননি। উল্টো নিতুকে শিক্ষিকা লায়লা বলেন, বিশেষ ক্লাসে বেতন দিতে না পারলে এই স্কুলে মরতে আসছ কেন। অন্য স্কুলে গিয়ে মরতে পার না।  এতে নিতু ভুগোল পরীক্ষা খারাপ হয়। ওই ঘটনার পরদিন বিজ্ঞান পরীক্ষা থাকায় সেটিও তার খারাপ হয়েছে। ফেল করিয়ে দেওয়া হয় গনিতেও।

নিতু বলে, আমার বাবা একটি প্রতিষ্ঠানের গার্ড ও স্বল্প আয়ের চাকুরিজীবি। আমি নিজে টিউশনি করে আমার পড়াশোনার খরচ চালাই। আমার স্কুলের কোনো মাসের বেতন বকেয়া নেই এবং পরীক্ষার ফিও দিয়েছি নিয়মিত। তবে বিশেষ ক্লাসের বেতন দিতে পারি নাই। কারণ স্কুলের বেতন ও নিজের খরচ চালানোর পর বিশেষ ক্লাসের বেতন দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ইতিপূর্বে আমি স্কুল থেকে বেতন মওকুফ চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমার বেতন মওকুফ করেনি। তারা আমাকে বলেছে যে, “স্কুলের বেতন পুরোপুরি দিলে বিশেষ ক্লাসের বেতন দেওয়া লাগবে না। সেই অনুযায়ী আমি বিশেষ ক্লাস করেছি। আমি ক্লাসের থার্ড গার্ল হয়ে পরীক্ষায় কেন ফেল কর? বিশেষ ক্লাসের বেতনের জন্য টেস্ট পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে আমাকে মানসিক ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে।

সে অভিযোগ করে জানায়, তিন বিষয়ের মধ্যে ভূগোল পরীক্ষা দিন আমাকে ৪৫ মিনিট বিশেষ ক্লাসের বেতন দেয়ার জন্য পরীক্ষা হল থেকে ডেকে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এর পরের দিনই ছিল বিজ্ঞান পরীক্ষা। ভূগোল পরীক্ষার দিন ৪৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখায় আমি সারাদিন কান্নাকাটি করেছি। পরের দিন আমার বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল । আমার পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করলেও স্কুল কতৃপক্ষ তা দেখাতে বাধ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকালে নিতুকে ডেকে নেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ ডিসি অফিসে। সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজ নিতুর সকল কথা ও তার অতীরে মেধাবী রেজাল্ট দেখে আগামী ২০২৩ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের আশ্বাস দিয়ে ভালমতো পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেন। 

এদিকে মর্গ্যান স্কুলের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সহকারি প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তারের ব্যবহার খুবই রূঢ়। নিতুর সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালীন এমনটা না করলেও পারতেন। মেয়েটির বাবা গরীব। তাই সেই জানুয়ারী থেকেই বিশেষ ক্লাসের বেতন দিতে হবে না বলে নিতুকে জানিয়েছিলো স্কুল কতৃপক্ষ। সমস্যা হলো শিক্ষিকা লায়লা প্রভাবশালী স্কুল কতপৃক্ষের পছন্দের। তাই তার বিষয়ে কিছু করা যাচ্ছে না।