এক সময়ের মলম বিক্রেতা শাহ্ আলম এখন ভুয়া সম্পাদক

267

মোঃ মিঠু আহম্মেদ : সাংবাদিকতা হচ্ছে একটি মহৎ পেশা,আর এই পেশ পূজি করে হরহামেশেই কিছু কিছু লোক সাংবাদিক ও সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও বহু অপকর্ম করে যাচ্ছে পুলিশের নাকের ডগায়।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতারক হল  শাহ আলম তালুকদার। নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিল পাড়া জগদীশ মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে চকি বিছিয়ে ফুটপাতে চুলকানির মলম বিক্রি করত বলে নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। হকারি ও মলম বিক্রিই ছিল শাহ আলমের পেশা ও নেশা।

 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরিয়তপুর জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক রুদ্র বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক হচ্ছে শহিদুল ইসলাম পাইলট। শরিয়তপুর জেলা প্রতিমা আট প্রেস থেকে মুদ্রিত লেখা থাকলেও তার ছিটে ফোঁটাও নেই নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ পাওয়া দৈনিক রুদ্রবার্তা পত্রিকায়। শরিয়তপুরের এই পত্রিকা নারায়ণগঞ্জে অবৈধভাবে প্রকাশিত করে হরহামেশেই অটো বানিজ্য ও কার্ড দিয়ে চাঁদাবাজি করার খবর পাওয়া গেছে। দৈনিক রুদ্রবার্তার সম্পাদক আসলে কে?  শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক জনাব কাজী আবু তাহেরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে লিষ্টে দৈনিক রুদ্র বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে জনাব শহিদুল ইসলাম পাইলট নামে অন্তর্ভুক্ত আছে। এখন শাহ আলম নামে কোন লোক কিভাবে এই পত্রিকা সম্পাদনা করে তা আমার জানা নেই। নিয়ম হচ্ছে যে পত্রিকা আঞ্চলিক ভাবে ডিকলারেশন নিবে তাকে ঐ খান থেকেই পত্রিকা বের করতে হবে। ডিসি কাজী আবু তাহের আরও বলেন,” যেহেতু আমরা জানতে পেরেছি এই পত্রিকাটি অন্য কেউ সম্পাদনা করছে, সে কিসের ভিত্তিতে করছে তা বের করতে আমরা ব্যাবস্থা নিব।

এখন কথা হচ্ছে একজন ব্যাক্তি কয়টি পত্রিকা সম্পাদনা করতে পারে তা আমরা জানি। মুলত বর্তমানে সাংবাদিকতা করতে কোন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। কারন পুলিশের সাথে আর রাজনীতিবিদের সাথে তেল মেরে চল্লেই সাত খুন মাফ। কে মলম বিক্রেতা আর কে মাদক ব্যবসায়ী? কে ভূমি দস্যু?কে চাঁদাবাজ প্রসাশন তা আমলেই নেয় না। দেশে যদি সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন থাকত তাহলে নামে বেনামে কি ভাবে তাড়া পত্রিকা পরিচালনা করে? কি তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা?  ১৯৭২ সনের ছাপা খানা আইন কি তাড়া মেনে চলে ? নারায়ণগঞ্জ শহরে এমন অনেক পত্রিকার সম্পাদক আছে যাদের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। অর্থচ তাড়া সরকার, সমাজের, প্রসাশনের বিরুদ্ধে হরহামেশেই নিউজ করছে। যা দেখে প্রসাশন ও নিরব ভূমিকা পালন করছে। আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকা দিয়ে শহরে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে।

ডিসি ও এসপির উচিত যে সকল পত্রিকা তাদের দপ্তরে যায় সে সমস্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কে চিঠি দিয়ে জানার জন্য যে তারা কিভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করে এবং তাদের বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কি না? তাদের আয়ের উৎস ও পত্রিকা চালানোর উৎস কি?

জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসককে এই অবৈধ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্র দিলেও জেলা প্রশাসক কোন ব্যবস্থা নেয় নি বলে জানা যায়। ২০১১ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারকে আইন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র দিলেও তৎকালীন পুলিশ সুপার অদৃশ্য কারনে প্রতারক ও ভুয়া সম্পাদক শাহ আলমের বিরুদ্ধে কোণ আইন্ত ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা যায়।