লুঙ্গি মিজানের সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

75

নিজস্ব প্রতিনিধি: এক কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার সময় উপজেলার পৌরসভার কৃষ্ণপুরা এলাকা থেকে গাঁজার চালানসহ মাদক কারবারিদের আটক করা হয়।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকালে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই পঙ্কজ কার্তিক এ তথ্য নিশ্চিত করে।

পংকজ জানায়, পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকা থেকে জানা যায়, মাদক সম্রাট লুঙ্গি মিজান দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করে। মাদকের ব্যবসা করে দামি গাড়ি ও ক্রয় করে। এলাকায় টিকটকার লুঙ্গি মিজানে নামে পরিচিত হয়। পুরো এলাকাটা মাদকের বিস্তার শুরু করে। দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকাবাসীর নজরে থাকা গতকাল হাতেনাতে গাঁজার চালান সহ দুইজনকে এলাকাবাসী আটক করে।

এসময় আটককৃত মাদক কারবারিরা জানান, লুঙ্গি মিজানের কাছ থেকে ফেন্সিডিল ও টাকার বিনিময়ে গাঁজার এ কারবারি চলছিল। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর তুপের মুখে পড়ে লুঙ্গি মিজান গঠনথস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা থানায় অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে।

এছাড়াও এলাকাবাসী আরো জানান, মাদক যসম্রাট লুঙ্গি মিজান একা মাদকের সাথমুক্ত জড়িত নয় তার পুরো পরিবার মাদক ক্রয় বিক্রয়ের সাথে জড়িত।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত মাদক কারবারিরা জানায়, লুঙ্গি মিজান মাদকের বড় ডিলার, তার কাছ থেকে ফেনসিডিলের পরিবর্তে গাঁজা সংগ্রহ করে। লেনদেনের শেষ মুহূর্তে এলাকাবাসী তাদের আটক করে। পরে পুলিশ থানায় নিয়ে লুঙ্গি মিজান সহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পুলিশের নাকের ডগায়ই মাদক সম্রাট লুঙ্গি মিজানের মাদক ব্যবসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লুঙ্গি মিজানের বাড়ি পৌরসভার কৃষ্ণপুরা গ্রামের নয় তারা কখনো নিজের বাপের বাড়ি কখনো নানির বাড়িতে বসবাস করে। সে এখানে বাড়ি করে মাদক ব্যবসা করে আসছে। এই এলাকার সম্মান নষ্ট হবে বলে তারা দীর্ঘদিন যাবত মাদক কারবারীর বিষয়টি গোপন করে রাখে। কিন্তু বিষয়টি ব্যাপক বিস্তার লাভ করলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে হাতেনাতে তার মাদক কারবারি আটক করে। মাদক সম্রাট লুঙ্গি মিজানের জমজমাট মাদক ব্যবসার কারণে সোনারগাঁয়ে হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা। এলাকায় মাদক বিক্রি হওয়াটা এখন স্বাভাবিক বলে মনে করে অনেকেই। এ ব্যাপারে কোনো রাখঢাকও নেই। সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তাঘাটে পাড়া মহল্লায় মাদক ঘুরে ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ করেন অনেকে।

এ ছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পৌরসভা সহ কমপক্ষে ৪০ টি স্পটে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবার বিক্রি হচ্ছে। এই চক্রের মাদক ব্যবসার শেল্টারদাতা নাকি অনেক প্রভাবশালী নেতারা। এদের মধ্যে বিরোধী ও সরকার দলীয় নেতাদের নামও বলছেন অনেকে।

এ সকল প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চক্রটি নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রি করে থাকেন। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সি তরুণদের সঙ্গে কিছু সংখ্যক তরুণীও নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ইদানিং মাদকাসক্ত পরিস্থিতিটা উপজেলার পৌরসভা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তারা জানান, মাদক সেবনকারীদের উৎপাতে এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ইদানিং কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেও বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। বরং দিন দিন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত যুবক ও তরুণরা যোগ দিচ্ছে মাদক সেবনের সাথে ব্যবসায়ও।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুজ্জামান জানান , আগের তুলনায় মাদকের প্রভাব অনেকটা দমন হয়েছে। মাদক বিক্রি বন্ধে আমরা সবাই চেষ্টা চালাচ্ছি।