উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে পণ্য উঠানামা ও টোল আদায়

50


মোঃ জমির আলী হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে চুনারুঘাট পৌরসভার উত্তর ও দক্ষিণ বাজার সড়ক ও স্ট্যান্ডে বিভিন্ন যানবাহন থেকে পণ্য উঠানামা টোল আদায় কার্যক্রম চালাচ্ছে চুনারুঘাট পৌরসভার ইজারাদার। উচ্চ আদালতের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও কাজী জিনাত হক গত ২৯ এপ্রিল উক্ত কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য বন্ধ রাখার আদেশ প্রদান করেন বলে এলাকার লোকজন জানান । চুনারুঘাটের চন্ডিছড়া গ্রামের শফিক আহমেদ নিহাল নামে এক ব্যক্তি গত ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে ওই কার্যক্রম বন্ধের জন্য একটি রিট মামলা দায়ের করেন। চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়র, ইজারাদার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে উক্ত রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নিহাল বলেন, গত ২৯ ফেব্রুয়ারী চুনারুঘাট পৌরসভার ইজারা বিজ্ঞপ্তির ২নং শর্তে দরপত্রের সাথে শতকরা ৫০ ভাগ জামানত দিতে ব্যর্থ হলে উক্ত দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু ইজারাদার জামানতের শতকরা ৩০ ভাগ টাকা প্রদান করেছেন। যা বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে ৩০ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় মোঃ নুরুল হক নামে এক ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। নিহাল বলেন, গত ১৫ মে উচ্চ আদালতের আদেশের কপি সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মেয়র বরাবরে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন। যার অনুলিপি স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়েছে। হাট বাজার ব্যবস্থাপনা নীতি মালা ভঙ্গ এবং উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে বিভিন্ন পরিবহন থেকে রশিদ দিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে টোল আদায় করছে পৌরসভার নামে ইজারাদারের লোকজন।
ইজারাদার মোঃ নুরুল হক বলেন, আমি এখনো রিটের কপি পাই নাই। আমাকে বিপদে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ রিট করা হয়েছে। আমি নিয়মনীতি মেনে ইজার পেয়েছি।
পৌর মেয়র মোহাম্মদ সাইফুল আলম রুবেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি বলতে পারবেন।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ওবায়েদ বলেন, হাট বাজার ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় দরপত্রের সাথে ৩০ শতাংশ জামানত দিতে হবে। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ৫০ শতাংশ দিতে বলা হয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা আক্তার বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে মেয়রের সাথে কথা বলবো।
হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রভাংশু সোম মহান বলেন, আমার হাতে রিটের কপি এখনো আসে নাই। আসলে এ ব্যাপারে কপি দেখে কথা বলবো।