রুহুল আমিন মণ্ডল:
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের দোসর ও পরিচিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর ডালিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, আপন ভাই বোবেন নাম ব্যবহার করে জাহাঙ্গীর ডালিম পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্দোষ ব্যক্তিদের সম্মানহানি করছেন।
এই মিথ্যা সংবাদ ও ফেসবুকভিত্তিক অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পিয়াসা ও শামীম। তারা দাবি করেন, জাহাঙ্গীর ডালিম ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর ডালিম সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি মানহানিকর স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চরম আপত্তিকর ও অশালীন ভাষায় মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। ওই স্ট্যাটাসে ব্যক্তি আক্রমণ, চরিত্র হনন এবং ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জাহাঙ্গীর ডালিমের ফেসবুক স্ট্যাটাসের একটি অংশ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো—
“বিশিষ্ট মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারী বাবা শামীম ও সুদী শামীম নামে সুপরিচিত, বিভিন্ন প্রকারের অসামাজিক, বেহায়াপনা, বেলাজা পূর্ণ নারী তারই বোন পিয়াশা আক্তার। তারই জ্যাঠাতো ভাই, পরের সম্পদ লুণ্ঠনকারী, প্রতারণামূলক ১২ মামলার আসামি, ভয়ংকর ভূমিদস্যু আলতাবের নেতৃত্বে রামারবাগ এলাকা ও ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় জনজীবন আজ অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মাদক ব্যবসা, সেবন, অসামাজিক কাজ, ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির আখড়া বানিয়ে তুলছে। সম্মানিত পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে দ্রুত আমলে নিয়ে ন্যায়গত হস্তক্ষেপ না করিলে সাধারণ জনজীবন ভয়ংকর হুমকির মুখে পতিত হতে যাচ্ছে।”
ভুক্তভোগী পিয়াসা ও শামীম বলেন, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই জাহাঙ্গীর ডালিম এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা বলেন, “এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বক্তব্য আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।”
এলাকাবাসীর একাংশও দাবি করছেন, জাহাঙ্গীর ডালিম দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ভয়ভীতি ও মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই মিথ্যা সংবাদ ও ফেসবুক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর ডালিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের অপপ্রচার সমাজে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।




