ভুমি দস্যু ও জবর-দখলকারী হানিফ মোল্লাকে সংগঠন থেকে আইনি নোটিশ

173

উম্মে হানি মায়া : নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের হানিফ মোল্লা সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে অসহায়দের জমি জবর-দখল করার অপচেষ্টা করছে। জবর-দখলকারী ভূমি দস্যু হানিফ মোল্লা কি সাংবাদিক? ভুক্তভোগী উম্মে কুলসুম ও আবুল বাসার বাদী হয়ে পপার্স লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ রাইটস এন্ড পিউর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিতে আইনত সহায়তার জন্য আবেদন করেছে। সংগঠনটি ১৮ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার এডি করে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সন্ত্রাসী হানিফ মোল্লাকে নোটিশ প্রেরণ করেছে, নোটিশের অনুলিপি ডিসি, এসপি, ফতুল্লা ও রূপগঞ্জ থানা, এসিল্যান্ড রূপগঞ্জ, নির্বাহী কর্মকর্তা রূপগঞ্জকে প্রেরণ করে রিসিভিং করা হয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি ও পুলিশ সুপার অফিস থেকে ভূমি সন্ত্রাসী হানিফ মোল্লাকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানায়।

ভুক্তভোগীর আবেদন নীচে তুলে ধরা হলো:

আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী উম্মে কুলসুম (৪৫), স্বামী আবুল বাশার, পিতা-হাজী মমতাজ উদ্দি, মাতা-হাজী আছিয়া খাতুন, সাং-নওগাঁ, পোঃ কালাপাহাড়িয়া, থানা-আড়াইহাজার, জেলা-নারায়ণগঞ্জ আপনার সংগঠনের অফিসে এসে এই মর্মে আবেদন করছি যে বিবাদী মোঃ হানিফ মোল্লা (৪৫), পিতা-মরহুম কফিল উদ্দিন মোল্লা, মাতা-ফজিলা খাতুন, এনআইডি নং ৫৫৩ ৯৩০ ০৪৯০, সাং- মর্তুজাবাদ, পোঃ-ভুলতা, থানা-রূপগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, আমার সাফ-কাবলা দলিলমূলক ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে জবর-দখল করে নির্মাণ কাজ করছে। আমি ও আমার স্বামী তাকে বাধা দিলে উক্ত বিবাদী আমাদের সাথে খারাপ ও অশোভাচরন করে ও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি প্রদান করে।

মালিকানার বিবরণ- নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা ইউপির সোনাব গ্রাম নিবাসী হাজী আয়েত উল্লার আরএস রেকর্ডে মালিক ও দখলদার থাকাকালীন মৃত্যুবরন করলে তার পুত্র রেজাউল করিম পিতার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ও দখল নেয়। উক্ত গ্রাম নিবাসী ফজর আলী আরএস রেকর্ডে মালিক ও দখলদার থাকাকালীন মৃত্যুবরন করলে তার কন্যা ওমরজান ও শারজান পিতার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ও দখল নেয় এবং ০৩/০৩/১৯৯৩ সালে রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১৬৩৬ নং সাফ-কাবলা দলিলে রেজাউল করিমের নিকট ওমরজান ও শারজান সাফ বিক্রয় করে নিঃস্বত্ববান হয়।

রেজাউল করিম ক্রয় সূত্রে ও পিতৃক সূত্রে মালিক ও ভোগ দখলকারী নেয় এবং ২৫/০৬/২০০৮ সালে মহিতুল ইসলামকে রেজিস্ট্রিকৃত ১৪২১৪ নং দলিলে ব্যাপক ক্ষমতাযুক্ত আম-মোক্তার দলিল প্রদান করে। মহিতুল ইসলাম আম-মোক্তার দলিলে ক্ষমতা পেয়ে ২৮/০৮/২০০৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ১৯৫৬০ নং-এর মাধ্যমে ভুলতা মৌজার জেএল নং-এসএ ১৪৭, আরএস ১৮২, খতিয়ান নং-এসএ ২৮৬, আরএস ১২৪, দাগ নং- সিএস/এসএ-৪৬৯, আরএস-৫৯০/৫৯১-এর ৪.০০ (চার শতাংশ) জমি উম্মে কুলসুমের নিকট সাফ-কাবলা বিক্রি করে। উম্মে কুলসুম জমি ক্রয় করে ২১/০৭/২০১৯ সালে সহকারী কমিশনার (ভুমি) রূপগঞ্জ-এর অনুমোদিত নামজারি জমাভাগ মোকদ্দমা নং-১৯৮২৬/১৮-১৯ করে নিজ নামে খাজনা প্রদান করে নিঃকণ্ঠ মালিক ও ভোগ দখলকারী হয়।

অপরদিকে, মহিতুল ইসলাম আম-মোক্তার দলিলে ক্ষমতা পেয়ে ২৮/০৮/২০০৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ২১৮৪৮ নং-এর মাধ্যমে ভুলতা মৌজার জেএল নং-এসএ ১৪৭, আরএস ১৮২, খতিয়ান নং-এসএ ২৮৬, আরএস ১২৪, দাগ নং- সিএস/এসএ-৪৬৯, আরএস-৫৯০/৫৯১-এর ৩.৭৫ (তিন দশমিক পঁচাত্তুর শতাংশ) জমি সিদ্দিরকুর রহমানের নিকট সাফ-কাবলা বিক্রি করে। উক্ত সিদ্দিকুর রহমান মালিক ও ভোগ দখলকারী নেয় এবং ২৮/০১/২০১০ সালে ৩৩২০ নং সাফ-কাবলা দলিলে আনোয়ার হোসেন বেপারী (অনু) ও মোঃ শামীম এর নিকট ৩.৭৫ (তিন দশমিক পঁচাত্তুর শতাংশ) জমি সাফ-কাবলা বিক্রি করে নিঃস্বত্ববান হয়।

আনোয়ার হোসেন ও শামীম জমির মালিক ও ভোগ দখলকারী নেয় এবং ০৮/১২/২০১০ সালে সহকারী কমিশনার (ভুমি) রূপগঞ্জ-এর অনুমোদিত নামজারি জমাভাগ মোকদ্দমা নং-৮৬৩৩/১০-১১ করে নিজ নামে খাজনা প্রদান করে নিঃকণ্ঠ মালিক ও ভোগ দখলকারী হয়। বিগত ১০/০৩/২০১৯ সালে আনোয়ার হোসেন বেপারী (অনু) ও মোঃ শামীম ২৪০২ নং দলিলে ব্যাপক ক্ষমতাযুক্ত আম-মোক্তার দলিল প্রদান করে। আমাদের উক্ত জমিতে বিবাদী মোঃ হানিফ মোল্লা জবর-দখল করে নির্মাণ কাজ করছে, বিধায় আইনি সহায়তার জন্য আপনার সংগঠনে আবেদন করলাম