গার্মেন্টস কর্মীকে জিম্মি করে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা করাচ্ছে চাপাতি জামালের চক্র

868

মোস্তাক আহমেদঃ গত ০৫ মার্চ, ২০১৮ইং তারিখে গার্মেন্টস কর্মী শামসু উদ্দিন এর কন্যা শারমিন আক্তার চাকুরীর উদ্দেশ্যে পূর্বের কর্মস্থল কাঁচপুর সিনহা গার্মেন্টেস চাকুরী ছাড়িয়া ভাল বেতনের আশায় জীবিকা নির্বাহ করার জন্য নরসিংদী শিবপুরে থার্মেক্স গ্রুপে অর্থাৎ আদুরী গার্মেন্টসে আসে। শারমিন জানায় নরসিংদী শিবপুর থার্মেক্স গ্রুপে আদুরী গার্মেন্টেস আসিয়া চাকুরীর জন্য কথা বলিলে গার্মেন্টস কর্তৃক জানায় যে, সামনে রমজান মাস ঈদের আগে কোন শ্রমিক লাগবে না এ কথা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে যায় এবং খুব চিন্তিত হয়ে নিজ বাড়ি শনির আখড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে জেলখানার মোড়ে বাসে উঠার জন্য অপেক্ষা করতে থাকাবস্থায় জামাল ঔরফে চাপাতি জামাল এর সাথে আমার সাক্ষাত হয় এবং আমার নাম ও ঠিকানা জানতে চায়, আমি আমার নাম ও ঠিকানা বলি। পরবর্তীতে জামাল ওরফে চাপাতি জামাল আমাকে আশ্বস্ত করে যে, তাহার বাড়ির আসে পাশে মিল ফ্যাক্টরী রয়েছে, আমার সাথে চল, আমি তোমাকে ভাল চাকুরী দিয়া দিব। এ কথা শুনে জামালকে বিশ্বাস করে তার সাথে তার বাড়িতে অর্থাৎ শিবপুর উপজেলা সাতপারা গ্রামে যাই। তার বাড়িতে যাওয়ার পর অনুমান রাত ১০ ঘটিকায় নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের হারিজ মিয়া ছেলে চাপাতি জামাল, মৃত মুন্তাজ উদ্দিন শেখ এর ছেলে চাঁন মিয়ার ও হারিজ মিয়া, সামসুদ্দিন এর ছেলে মুকুল মিয়া, রমিজ উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে তমিজ উদ্দিন মিয়ার যোগ সাজসে আমাকে জানায় আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ট্যাবলেটের ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা করে আসছি, এই ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা খুব লাভজনক ব্যবসা, তুমি আমাদের সাথে এই ব্যবসাটা করতে থাক তোমার টাকার কোন অভাব হবে না। তোমার শুধু একটাই কাজ আমরা যে কোন একজন করে তোমার সাথে যাব ব্যাপারী পাড়া (লঞ্চঘাট) নরসিংদী থেকে (ইয়াবা ট্যাবলেট) নিয়া আসিব এবং বিভিন্ন স্থানে সাপ­াই দিব এবং পরবর্তীতে এ কথা শুনে অনেক চিš—া ভাবনা করে উপায় না পেয়ে তাদের কথায় রাজি হইয়া তাদের ব্যবসা করিয়া আসিতেছিলাম। এ অবস্থায় কিছুদিন পরেই বলে যে, তোমার মত আরো ২ জন মেয়ে নিয়া আস তাহলে আমরা ঝমজমাট ব্যবসা করিতে পারব। তাদের কথা শুনে শনির আখড়া থেকে আমার বান্দবী তানজিনা ও শরিফাকে নিয়া আসি এবং তাদের সাথে পরিচয় করাইয়া দেই। পরবর্তীতে উক্ত চক্র তানজিনা ও শরিফাকে সঙ্গে নিয়া (ইয়াবা ট্যাবলেট) আনতে যায় বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বাড়িতে ফিরে না আসলে তানজিনা ও শরিফার কথা জিজ্ঞাসা করিলে চক্রের লোকজন জানায় বগ বগ করিস না বলে ধমক মারে এবং বেশি কথা বলিস না বলে জানায়। পরবর্তী সময়ে ৫/৬ দিন হয়ে গেলেও তানজিনা এবং শরিফার কোন খবর না থাকায় পুনরায় তানজিনা ও শরিফার কথা জিজ্ঞাসা করিলে চক্রের লোকজন আমাকে প্রাণে মারিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। উক্ত হুমকি শুনে ভয়ে ভয়ে রাতের বেলা উক্ত বাড়ি হইতে পালাইয়া বাস যোগে আমি শনির আখড়া পালাইয়া যায় এবং তানজিনা ও শরিফার পিতাদ্বয়কে জানাইলে তাদেরকে সঙ্গে নিয়া আলোচনা করিয়া নরসিংদীতে আসিয়া গত ০৬/০৬/২০১৮ইং তারিখে জেলা প্রশাসক, নরসিংদী বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করে বলে জানায়।