বন্দরে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত নেতা আবুল হাসনাতকে যুবলীগ নেতা বানানোর অপচেষ্টা

432

বন্দরে নাশকতা মামলার আসামী জামায়াত নেতা আবুল হাসনাত (৩৮)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণের পর একটি কুচক্রি মহল জামায়াত নেতাকে বাঁচাতে যুবলীগ নেতা বানানোর অপচেষ্টা চালানোর গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত নেতা আবুল হাসনাত বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের বাগদোবাড়ীয়া এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে। গতকাল স্থানীয় ১টি পত্রিকায় তাকে মদনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা বলে দাবী করা হয় এবং তার পক্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিবৃতি দিয়েছে বলে পত্রিকাটিতে দাবী করা হয়। কিন্তু আসলেই তারা কোন বিবৃতি দিয়েছে কিনা তার দৃশ্যমান কোন সত্যতা খুজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া একজন জামায়াত নেতার পক্ষে তারা বিবৃতি দিবে কিনা তা যথেষ্ঠ সংশয় রয়েছে। কারণ ২০১৬ সালের ৮ই মে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪ নেটে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ব্যানারে মদনপুরে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মিছিল ও পিকেটিং এর নিউজ প্রকাশ করা হয় এবং সে নিউজে গ্রেফতারকৃত আবুল হাসনাতকে সে সময়ে ব্যানারের সামনে থেকে মিছিল করতে দেখা গেছে। তাছাড়া তার ফেইসবুক আইডিতে বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী এবং জামায়াতের পক্ষে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
এদিকে তাকে গ্রেফতারের পর জনগণ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। কারণ কথিত বিএনপির এই নেতা পল্টিবাজ হিসেবে উক্ত এলাকায় খ্যাত। স্বার্থ হাসিলে সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলে ভিড়ার চেষ্টা করেছে। সর্বশেষে তার স্থান হয়েছে জামায়াতে। এলাকায় চাঁদাবাজী, প্রভাব বিস্তার ও উচ্ছৃঙ্খল একটি গ্রুপ তৈরী করে জনগণের মধ্যে ভীতির জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি এবং অস্ত্রের মহড়া সহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ড দিনের পর দিন চালিয়ে যাওয়ায় এবং পরিশেষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ায় জনসাধারণ তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবী করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে বন্দর থানার বাগদোবাড়ীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার মামলা নং- ২১(২)১৮ ধারা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ঘ) তৎসহর ১৯০৮ সালের বিস্ফোরন উপাদানাবলী আইন (সং/১২) এর ৩/৬। গত ৮ ফেব্রুয়ারী ভোর ৬টায় বন্দর রেলালাইন বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতা আবুল হাসনাত নাশকতার জন্য ধারালো অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ ব্যাপারে বন্দর থানা পুলিশ বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করেন। মঙ্গলবার ভোরে কামতাল তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার বাগদোবাড়ীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা আবুল হাসনাতকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত নেতাকে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে ওই দিনই দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হুসাইন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত নেতা আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ৮(৭)১২, ৪৩(২)১২, ১৭(৭)১৩, ১২(৪)১৭, ১০(৬)১৫ ও ৯(৬)১৫ নং মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।