সোনারগাঁ থানার ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলাটি মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

439

সময়ের চিন্তা ডট কমঃ সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম ও সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সাধন চন্দ্র বসাকের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপনের আদালতে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাকে মিথ্যা দাবি করেছে উপজেলা কমিউনিটি পুলিশ। রবিবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। এসময় উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি গাজী মজিবুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সনমান্দী ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম খোকন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া গ্রামের একটি জমি নিয়ে সানিফয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ইকবালের সাথে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মাছুম চৌধুরীর দীর্ঘদিন ধরে দ্ব›দ্ব চলে আসছে। এনিয়ে সম্প্রতি ওই এলাকায় আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা তৈরী হওয়ায় সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলমের নির্দেশে সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সাধন চন্দ্র বসাক ওখানে একটি নোটিশ জারি করেন। এদিকে যুবলীগ নেতা মাছুম চৌধুরীর নির্দেশে ৮ অক্টোবর গভীর রাতে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও আনিসুর রহমানসহ অজ্ঞাত কয়েকজন উক্ত নোটিশকে উপেক্ষা করে ওই নালিশা সম্পত্তি জোরপূর্বক  দখলের  চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন চন্দ্র বসাকের নেতৃত্বে পুলিশ ওখানে উপস্থিত হয়ে জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও আনিছুর রহমানকে আটক করে। এসময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে এক পর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম স্বপন কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মাটিতে পড়ে গিয়ে আঘাত পান। পুলিশ তখন তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় আটক করে রাখে। পরের দিন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি আসাদুল ইসলামের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে ছাড়া পেয়ে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপন ১১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন চন্দ্র বসাকের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। তাই অবৈধভাবে জমি দখলে বাধা দেয়ায় ওসি ও এসআই’য়ের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি গাজী মজিবুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনী, শহীদ কমিশনার, জামপুর ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি দেওয়ান কামাল, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান জাহানারা আক্তার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের স্থায়ী সদস্য হাজী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সদ্য প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ মোল্লার রুহের মাগফিরাত এবং অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনীর সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।

মামলা প্রসঙ্গে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, অবৈধভাবে জমি দখলে বাধা দেয়ায় জাহিদুল ইসলাম স্বপন বাদি হয়ে আমি ও থানার সেকেন্ড অফিসার সাধন চন্দ্র বসাকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যার ইন্ধনে এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সেই মাছুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা। এরা সোনারগাঁয়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও ভ‚মিদস্যু। এদের অন্যায় কাজে বাধা দিলে এরা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে।

ওসি মোরশেদ আলম আরো জানান, মাছুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো- সোনারগাঁ থানার মামলা নং ১৭ তাং ১৬.০২.১৭ইং, মামলা নং ২৩ তাং ১৩.০১.১৭ইং, মামলা নং ২৩ তাং ১১.০৫.১৬ইং, মামলা নং ১৯ তাং ১৬.০৭.১৩ইং, মামলা নং ৯ তাং ০৪.০৬.১৩ইং, মামলা নং ১৫ তাং ১১.০৫.১২ইং। মামলা নং ১৩ তারিখ ১১.০৫.১২ইং, মামলা নং ১৭ তাং ১৭.০৭.০৫ইং, মামলা নং ১৪ তাং ১২.০৪.০৯ইং, মামলা নং ১৯ তাং ০৮.১০.১৮ইং।

এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউপির দমমদা এলাকার জয়নাল সরকারের ছেলে মাছুম সরকার নিজ নামের সাথে চৌধুরী উপাধি ব্যবহার করেন দীর্ঘদিন যাবত। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। পরে মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা না পেয়ে থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সাথে যোগ দেন। এরপর আবুল হাসনাত ইন্তেকাল করলে তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন। আব্দুল্লাহ আল কায়সার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সোনারগাঁয়ের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মাছুম চৌধুরী তার এপিএস হন। এসময় তিনি এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামীলীগ নেতা শহিদুল্লাহর ছেলে লিংকনকে হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ায় তার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়।

এদিকে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর মাছুম চৌধুরী ও জাহিদুল ইসলাম স্বপন তাদের ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে এমপি খোকাকে ফুলের তোড়া দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। কিন্তু কিছুদিন পর এমপি খোকা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য টের পেয়ে জাতীয় পার্টি থেকে তাদের মৌখিকভাবে বহিস্কার করেন। এরপর তারা আবারো আব্দুল্লাহ আল কায়সারের সঙ্গে যোগ দেয়।