রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সেবা করা,তা আমি করতে পেরেছি- এমপি খোকা

587

সময়ের চিন্তা ডট কমঃ নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা বলেছেন, ‘রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সেবা করা, তা আমি করতে পেরেছি। মহাজোট সরকার এটা করে দেখিয়েছে। গত ৫ বছরে সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে। আমি এই ৫ বছর সব ধরণের লোভ লালসা ত্যাগ করে সোনারগাঁবাসীর কল্যাণে নিজেকে উজার করে দিয়েছি। মানুষকে শান্তিতে রাখতে চেষ্টা করেছি। এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই আমি উপজেলাবাসীকে আপন করে নেয়ার নিয়ত করেছিলাম। আল্লাহ আমার সেই নিয়তকে কবুল করেছেন। সোনারগাঁয়ের মুরুব্বীদের মাঝে আমি আমার হারানো বাবা-মা’কে খুঁজে পেয়েছি। তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করেন। এর চেয়ে বেশি পাওয়া আর কিছুই হতে পারে না। এজন্য আমি শীঘ্রই পবিত্র কাবা শরীফে গিয়ে শোকরানা নামাজ পড়ব বলে ঠিক করেছি।’

৩রা নভেম্বর শনিবার ১২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ৩০৫টি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা এসব কথা বলেন। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিকাল ৪টায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি হাইস্কুল ও মাদ্রাসায় নতুন ভবন, ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন, ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশবøক, সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প, ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সহ অন্যান্য প্রকল্প, উপজেলার উন্নয়ন তহবিল থেকে ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তার উন্নয়ন কাজ, ২ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন নদ, নদী ও খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ, ১৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকার চেক বিতরণ, ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণ এবং ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা আর বলেন, গত ৫ বছরে আমি যে উন্নয়ন করেছি এটা শুধু আমার একার কৃতিত্ব নয়। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তার সুদৃষ্টি না থাকলে আমি এই উন্নয়ন করতে পারতাম না। তাছাড়া আমার দলের চেয়ারম্যান ও আমার পিতৃতুল্য পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং মাতৃতুল্য রওশন এরশাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তাদের স্নেহের পরশ আমার রাজনৈতিক জীবনকে ধন্য করেছে। তাছাড়া আমার এই উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করায় আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, স্নেহের ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল কায়সার, ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার, অ্যাডভোকেট নূরজাহান সহ স্বাধীনতার পক্ষে সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম সহ সকল অফিসারদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

এমপি খোকা বলেন, আমি কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। দেশের এমন কোন উপজেলা  নেই যেখানে আমার রাজনৈতিক সফর হয়নি। এক পর্যায়ে আল্লাহ আমাকে সোনারগাঁবাসীর খেদমতের দায়িত্ব দিলেন। আমি সেটাকে তার নেয়মত মনে করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সত্যি বলতে, আমি নিজেকে সোনারগাঁবাসীর খেদমত করার জন্য একজন কর্মচারী ভাবি। তবে সোনারগাঁবাসীর ভালোবাসায় আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আপনারা যদি বলেন সোনারগাঁয়ের উন্নয়নের জন্য আগামীতে আমাকে আবারো দরকার তাহলেই আমি নির্বাচন করবো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সহধর্মীনি ডালিয়া লিয়াকত, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার, উপজেলা জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বারদী ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক, পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, বৈদ্যেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফ, নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান, সনমান্দী ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ, কাঁচপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশেক পারভেজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হাবিব তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী আল হায়দার খাঁন সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ, সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম, জামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান জাহানারা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা ইসলাম ফেন্সী, পৌরসভার কাউন্সিলর জাহেদা আক্তার মনি সহ অন্যান্য কাউন্সিলরবৃন্দ, সকল ইউনিয়নের পুরুষ ও মহিলা মেম্বারবৃন্দ, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগসহ মহাজোটের শরীক দলগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ হাজার হাজার জনগন।