২৫ হাজার কর্মীর ডিজিটাল ফরমেটে নির্বাচনী মাঠে নামবেন সেলিম ওসমান

371

বন্দর প্রতিনিধিঃ প্রায় ২৫ হাজার মাঠ কর্মী নিয়ে ডিজিটাল ফরমেটে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ও উক্ত আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর সকাল ১১টা রাত ৮টা পর্যন্ত বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও বন্দর থানা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে পৃথক ভাবে মেরাথন মত বিনিময় করেছেন এমপি সেলিম ওসমান।

যার মধ্যে সকাল ১১টায় মুছাপুর, ধামগড়, ও মদনপুর ইউনিয়ন, বিকেল সাড়ে ৩টায় কলাগাছিয়া ও বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও তাদের কর্মীবৃন্দদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় থানা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় করেন তিনি।

প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বারদের সাথে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২৫জন করে সক্রিয় কর্মী মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পৃথক তিনটি মত বিনিময় সভায় প্রায় ৩ হাজার নির্বাচনী কর্মী অংশ নিয়েছেন।

উক্ত মত বিনিময় সভায় এমপি সেলিম ওসমান অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচনী আচরনবিধি মেনে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার আহবান রাখেন।

এসময় সকলের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, আগামী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা নিজ নিজ এলাকায় সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।  অনেকেই নির্বাচন বানচাল করার জন্য অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র করবে। ষড়যন্ত্রকারীরা নাশকতা সৃষ্টির পায়তারাও করতে পারে। সাধারণ মানুষের মাঝে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয় গুলো আপনার খেয়াল রাখবেন। যাতে করে ষড়যন্ত্রকারীরা শান্তিপূর্ন ভোটের পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে অবাধে নিজের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে রকম শান্তিপূর্ন পরিবেশ আপনাদেরই সৃষ্টি করতে এবং বজায় রাখতে হবে। এলাকায় সন্দেহজনক কোন ব্যক্তি বা কর্মকান্ড লক্ষ্যনীয় হলে আপনারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিবেন। নির্বাচনে কোন অবস্থাতেই যাতে  শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট না হতে পারে সে বিষয়টি আপনারা গুরুত্ব সহকারে খেয়াল রাখবেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয় হতেই পারে। আপনারা শুধু নিজেদের দায়িত্বটুকু সঠিক ভাবে পালন করবেন। ইনশাল্লাহ সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সম্মানিত করবেন আপনারাই বিজয়ী হবেন।

মহাজোটের নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উনারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রতীকের দাবী করে ছিলেন। আমি নিজেই সর্বপ্রথম নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীক দাবী করে ছিলাম এবং সেটাই হওয়া উচিত বলে আমি মনে। এমনকি আমার রাজনৈতিক গুরুও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার ভাই। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আমি সহ আওয়ামীলীগ থেকে ১২ থেকে ১৪জন মনোনয়ন চেয়ে ছিলেন। মহাজোট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী আমাকে মনোনীত করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনে কষ্ট থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেখানে আছি সেখানেই থাকতে বলেছেন। আমি উনার নির্দেশনা অনুসরন করেছি। আমি বিশ্বাস করি উনারাও দলী সভানেত্রীর নির্দেশনা অনুসরন করবেন। অতীতে আমাদের যে ভুল হয়ে ছিল ভবিষ্যতে যাতে আর সেই ভুল না হয় সেই লক্ষ্যেই আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। আগামীতে ইনশাল্লাহ নারায়ণগঞ্জে ৫ আসনেই নৌকা প্রতীক হবে এবং আমি নিজেও নৌকার পক্ষে কাজ করবো।

মত বিনিময় সভা গুলোতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, যুগ্ম আহবায়ক আফজাল হোসেন, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু মিয়া, ১৯নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এম সালাম, যুব সংহতি নেতা শরীফ শাহ ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ৫৫ জন মেম্বার ও তাদের কর্মীবৃন্দ সহ জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।