পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভসহ বেশ কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করে

497

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরীতে  উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে ফকির নীট ওয়্যার নামের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভসহ বেশ কয়েকটি কারখানা ভাংচুর করেছে।পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

৩রা ডিসেম্বর সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্প পুলিশের একজন সহকারি পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানার ওসি ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়েছে।এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও শিল্প মালিকরা জানান, উৎপাদান মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নীটওয়্যার কারখানার শ্রকিদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল।মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবী অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা রবিবার কারখানাটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করে। এ অসন্তোষ নিরসনে কারখানার মালিকপক্ষ সোমবার সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা আগামীকাল বিভিন্ন কারাখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে।পরে এ বিক্ষোভ পুরো বিসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ পোশাকধারী বহিরাগত শতাধিক যুবক এসে শ্রমিকদের সাথে যোগ দেয়। এসময় তারা বিসিকসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

শিল্প মালিকদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িও তারা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা সহ বিপুল পরিমান পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। এতে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে শুরু হয় শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ও ৭/৮জন পুলিশ সদস্য সহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়। এসময় পুলিশ উত্তেজিত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। কিন্তু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষের কারণে বিসিক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে প্রায় আড়াই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

এদিকে  আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি অংশ জানায়, ফকির গার্মেন্টসে সম্প্রতি একটি চায়না মেশিন আনা হয়েছে। যে কাজ গুলো ৫ থেকে ৭ জন অপারেটর ও হেলপার করতো তা এই মেশিন মাধ্যমে একজন অপারেপর দিয়েই করা সম্ভব। এতে করে শ্রমিক ছাটাই ও মজুরী কমার আশংকায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে।

বিকেএমইএর’র সাবেক সভাপতি ও এম.ভি নীট ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা মো: হাতেম জানান, উৎপাদান মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নীটওয়্যার কারখানার শ্রকিদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবী অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা গতকাল রবিবার কারখানাটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করে। এ অসন্তোষ নিরসনে কারখানাটির মালিকপক্ষ সোমবার সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা আগামীকাল বিভিন্ন কারাখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে এ বিক্ষোভ পুরো বিসিকে ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ পোশাকধারী বহিরাগত শতাধিক যুবক এসে শ্রমিকদের সাথে যোদ দেয়। এসময় তারা বিসিকসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। বিসিকের এম.ভি নীটওয়্যার, নরসিংপুর এলাকার সাহিল গ্রæপ, হাজী হাসেম স্পিনিং মিল ও তারা স্পিনিং মিলে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অসংখ্য জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুব উন নবী জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য শ্রমিকদের বোঝাতে চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে বহিরাগত শতাধিক যুবক মিলে গিয়ে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা করে। তারা বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা ও যানবাহন ভাংচুর করে। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। শ্রমিকদের হামলায় শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানার আহত পুলিশ কর্মকর্তা বেশ কয়েকজন  সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এর সংখ্যা এখন নিশ্চিত করে বলা যাবে না। পরে খোঁজ-খবর নিয়ে বলা যাবে। এ ঘটনার পর বিসিক শিল্প নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়েছে।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, পুলিশের উপর হামলা, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার ব্যাপারে তদন্ত কাজ চলছে। তাদেরকে শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।