বর্ণি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সির ছত্রছায়ায় চৌকিদার শফিকুল মুন্সির গোড়ামী কারবার রুখবে কে?

481

সময়ের চিন্তা ডট কমঃ মাননীয় প্রদানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন, শোষকের দলে নেই, আমরা শাসকের দলে এবং আওয়ামীলীগ জনগণের সেবক, অথচ ঐ উক্তিকে উপেক্ষা করে একশ্রেণি নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসহায় মানুষ দুর্বলতার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত, এখন আমার প্রশ্ন যারাই রক্ষক তারাই যদি ভক্ষক হয়ে যায়Ñ তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে, কার কাছে আশ্রয় চাইবে।

বর্ণি ইউনিয়নের চৌকিদার শফিকুল মুন্সির বেপরোয়া অরাজকতা কারবার চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সির ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে চলছেই। তার বিরুদ্ধে শত অভিযোগের মধ্যে সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে শফিকুল মুন্সি ভাষা মোল্লার কন্যা মাজেদাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করায় মাজেদা গর্ভবতী হয় এবং একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। তা নিয়ে প্রকাশ্যে শালিশে মাজেদার ইজ্জতের মূল্য ৮ (আট) হাজার টাকা নির্ধারন করে রফা করা হয়। গত ১৫/০৭/২০১৮ইং তারিখে রাত ৮টার দিকে পরিকল্পিত ভাবে জনৈক শাকিল শেখের পকেটে ১০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জেলহাজতের ভয় দেখিয়ে আবার ২০ হাজার টাকায় তা ফয়সালা করেন চৌকিদার শফিকুল মুন্সি। আবার শফিকুল মুন্সি দায়িত্ব পালনকালে গত ০৮/০৯/২০১৮ইং তারিখে রহস্যজনকভাবে দুটি দোকানে মারাতœক চুরি সংঘটিত হয়। এমন অনেক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ধুলায়িত হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সির খাস লোক হওয়ায় শফিকুল মুন্সির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। এলাকার মানুষের আলোচনা সমালোচনা মুখরোচক আকার ধারন করে এর প্রেক্ষিতেই সাপ্তাহিক নিখুঁত খবর সংবাদ দাতা অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জন্য নিখুঁত খবর পত্রিকার দপ্তরে প্রেরণ করেন। সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য প্রমানাদিও প্রেরণ করেন। যথারীতি সংবাদপত্র নীতিমালার আলোকে সংবাদটি প্রকাশ হতেই চৌকিদার শফিকুল মুন্সি, চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সির তরফ থেকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শ শুরু হয়। সে পরিস্থিতির আলোকে নিখুঁত খবর কতৃপক্ষ, এলাকার মানবাধিকার গ্রæপের সদস্যবৃন্দ বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলে লিখিত ভাবে জানান। পুলিশ প্রশাসন এ নিয়ে আলোচনা বৈঠক করেন। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে সে বৈঠকে চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সিও উপস্থিত ছিলেন। আবার বৈঠক হবে বলে আপাতত সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহŸান জানিয়ে বৈঠক শেষ করেন। কিন্তু বিষয়টি অন্যদিকে গড়ায় তা হলো চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সির অহংকার দাম্ভিকতার পক্ষে নিখুঁত খবর পত্রিকার সম্পাদককে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের এএসপি ছাইদুর রহমান রুবেল পরিচয়ের ব্যক্তির মোবাইল ফোনে গত ০৯/১১/২০১৮ইং ও ২১/১১/২০১৮ইং তারিখে যার মোবাইল নং ০১৭৬৯-০৫৮১৭৯ থেকে নিখুঁত খবর সম্পাদককে (০১৯১৩১৩০৪২৪) ফোন দিয়ে বলেন চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সি ও চৌকিদার শফিকুল মুন্সির বিরুদ্ধে কেন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তার কৈফিয়ত চাওয়া হয়। তিনি পত্রিকা এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। কিভাবে সাংবাদিকতা করতে হয় সেটাও তিনি বুঝিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। পরে বলেন আমাকে চেনেন না এবং আপত্তিকরভাবে সম্পাদককে ব্যক্ত করেনÑ আপনি কোন অথেনটিক লোক না। সে সময় মোবাইলে আরো বলেনÑ ধর্ষিতা মেয়েটি আপনার কি হয় ? আপনার এতটা দরদ কেন ? এ ছাড়াও ভদ্রলোক একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে সাপ্তাহিক নিখুঁত খবর পত্রিকাকে তাচ্ছিল্য করে নানা কটাক্ষ করেন। প্রকাশিত সংবাদের ¯^পক্ষে কোন তথ্য প্রমাণ আছে কি না তা জানতে চাইলে সম্পাদক তা আছে বললে এএসপি সাইদুর রহমান ক্ষিপ্ত ভাষায় আরো রূঢ় ভাষা ব্যক্ত করেন আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত তার ভার পুলিশ প্রশাসনের উপর।

সংবাদ জগৎ-পুলিশ পরস্পর সম্পৃক্ত এ বিষয়টি শত সিদ্ধ। দেশের বহু অপরাধের চূড়ান্ত পরিণতি অর্জনে সংবাদপত্র জগতের ভূমিকা পুলিশকে কম সহায়তা দেয় না। সংবাদপত্র সব সময়ই যে কোন ঘটনা প্রকাশ করার আগে তার তথ্য প্রমানাদি হাতে নিয়েই প্রকাশ করে। একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে বিষয়টি জানানোর পরও তিনি তার স্বজনপ্রীতি থেকে বের হতে পারেন নাই। তিনি তার আচরণে দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষকতার প্রশ্নের জন্ম দিলেন। একজন সাংবাদিক সত্য প্রকাশে আপোষ করেন না। ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করেন না। একজন চৌকিদার শফিকুল মুন্সির বেপরোয়া অপকর্মের প্রশ্রয় দিয়ে চেয়ারম্যান বাদশা মুন্সি তার ইউনিয়নবাসীর প্রতি নিরপেক্ষতার কি ইঙ্গিত দিচ্ছেন? আবার এএসপি সাইদুর রহমান একটি প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিককে দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য করে বৃহত্তর পুলিশ পরিবারের প্রতি একজন সাংবাদিককে কোন পর্যায়ে দাঁড় করালেন?