সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট, যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

381

হাসিবুল ও তৌরব,সোনারগাঁঃ  নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে মহাসড়কের দুই প্রান্তে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সৃষ্টি এ যানজট গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্তও স্থায়ী হয়। সারাদিন ব্যাপী সৃষ্ট এ যানজটের কবলে পড়ে কয়েক হাজার পরিবহন যাত্রী চরম দূর্ভোগ পোহান। অনেক যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটে রওনা হন।

 পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, হাইওয়ে পুলিশের গাফিলতি, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, মেঘনা ও কাঁচপুর সেতু এলাকায় নতুন দুটি সেতুর কাজ পরিচালনা, মেঘনা সেতু এলাকায় ওজন স্কেল স্থাপন ও টোল আদায়ে ধীরগতির কারনে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে মহাসড়কের দুই প্রান্তে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ৩ দিন ধরে যানজটের কবলে পড়ে এসময় হাজার হাজার পরিবহন যাত্রী চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীদের অভিযোগ, মেঘনা সেতু এলাকা থেকে সৃষ্ট এ যানজট মহাসড়কের কাঁচপুর হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা ও অপর প্রান্তে দাউদকান্দি সেতু হয়ে গৌড়িপুর এলাকা পর্যন্ত এ যানজট স্থায়ী হলেও হাইওয়ে পুলিশের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

 ঢাকা থেকে মেঘনা রোডে চলাচলরত বোরাক পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দিনভর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট অব্যাহত ছিল। দিনভর যানবাহন চলাচল করেছে কচ্ছপ গতিতে। সকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়ার পর বিকেলে সোনারগাঁয়ে এসে পৌঁছেছি। আমার মত একই অবস্থা ছিল দুরপাল্লার অনেক পরিবহন চালকদেরও। হাজার হাজার পরিবহন যাত্রী দিনভর চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

 ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী হানিফ পরিবহন বাস সার্ভিসের যাত্রী হাসান ও ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, হাইওয়ে পুলিশের গাফিলতি, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, মেঘনা ও কাঁচপুর সেতু এলাকায় নতুন দুটি সেতুর কাজ পরিচালনা, মেঘনা সেতু এলাকায় ওজন স্কেল স্থাপন ও টোল আদায়ে ধীরগতির কারনে এ রোডে যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবিরা তাদের গ্রামের বাড়িতে আসা যাওয়া করার কারনে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল অনেক বেশী।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম সিকদার যানজটের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্যদের অর্ধবেলা কর্মছুটি শেষে ও শুক্রবার সপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের পরিমান ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশী। এছাড়াও মেঘনা ও কাঁচপুর সেতু এলাকায় নতুন দুটি সেতুর কাজ পরিচালনা করার কারনে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ দিনভর কাজ করছে। দিনভর যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করায় গতকাল যান চলাচল আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।