দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে – ডিডি মাহমুদুল

174

নিজস্ব প্রতিনিধি : দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে ঘোষনা করে ডিডি মাহমুদুল হাসান নতুন সুত্রে কাজ শুরু করেছে বলে জানা যায়।

১২ (ফেব্রুয়ারী) এক সংবাদে গাজী মাহমুদুল হাছান বলেছে, “আমি আসার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এটা স্মার্ট বাংলাদেশ, আমি আসার আগেই ব্রত নিয়ে এসেছি খুব সহজে জনগণের হাতে অল্প সময়ের মধ্যে কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে হবে।”

দীর্ঘদিন নয় ; মাস পেরুতেই ভিন্ন রূপ নিয়েছে সে আঞ্চলিক নারায়নগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের। জিরো টলারেন্সের বাঁধা ভেঙ্গে দালালদের হাতে চলে গেছে পুলিশ ভেরিফিকেশন। খোদ পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে নিয়ন্ত্রণিত কিছু দালাল চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে! আর মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। এ টি এন বাংলার ভিডিও চিত্রে দেখা মিলেছে আনসার বাহিনীর প্রায় সকল কর্মকর্তাই দালালদের সাথে বেশ ভালো সখ্যতা রাখে। নতুন পাসপোর্ট বা নবায়ন করতে গেলে গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা। অবশেষে পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্বটাও নিয়েছে এই দালাল চক্র, তার জন্যেও যোগ করতে হবে আরও কিছু অর্থ। পাসপোর্ট কর্মকর্তার কাজ শুধু সাইন করা আর ছবি তুলা, সে ফাইলটা যদি হয় দালালের হাত দিয়ে সেটার জন্য তদন্তের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে দালালদের জন্য রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যায়।আর ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশের বসবাসরত অর্জিনিয়াল নাগরিকরা।

সাংবাদিকের উপস্থিত টের পেয়ে দালালরা নীরব ভুমিকা পালন করে এবং সে স্থান ত্যাগ করে, বাহিরে তাদের ঘাটি কম্পিউটার দোকানে বসে দ্বীপদি কাজ করে যাচ্ছে। দালাল চক্রের উপরে হাত আছে পাসপোর্ট অফিসের কর্তা বাবুদের।

এ প্রসঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকার সানজিদা আক্তার বলে,”আমি দালাল না ধরে সরাসরি আবেদন জমা দিয়েছি ১ মাস হয়। অফিসে আসলে তথ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তথ্য কেন্দ্রে গেলে দোতালায় যোগাযোগ করতে বলে, এভাবে একজন আরেক জনের কাছে পাঠায়। পাসপোর্ট কবে পাব তার কোন নিশ্চয়তা নেই। লিগ্যাল ভাবে হয়রানি হতে হয় বলেই হয়তো সাধারণ মানুষ দালালদের সহযোগিতা নিয়ে থাকে।”

পাসপোর্ট অফিসের বাইরে দালালদের কম্পিউটারের দোকানে পরিচয় গোপন রেখে তাদেরকে পাসপোর্ট এর কথা বললে তারা বলে, ৫ বছর মেয়াদে ১৫ দিনে পাসপোর্ট পেতে সরকারি ফি বাদে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে হবে।” এত বেশি কেন জানতে চাইলে বলে, ” ২ হাজার টাকা অফিস খরচ, ১হাজার টাকা পুলিশ ভেরিফিকেশন আর ১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক।” পুলিশ ভেরিফিকেশনের টাকা আপনাকে দিব কেন? জবাবে দালাল বলে, বেশি বুঝলে ঘুরতে হবে।”

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে ; আপনি শুনে আশ্চর্য হবেন যে, তারা নিজেরাই পুলিশ সিল বানিয়ে স্বাক্ষর দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে! পাসপোর্ট অফিস তা যাচাই করে না।
এ ব্যাপারে পাসপোর্ট অফিসে উপ-পরিচালক গাজী মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “দেশের সব জায়গায়ই দালাল রয়েছে, এখানেও দালাল থাকতে পারে, আমি চাইলেও দালাল মুক্ত করতে পারব না। মানুষ সরাসরি আমার কাছে না এসে দালালের কাছে যায়।”
অনিয়ম এবং ঘুষের অভিযোগ সরাসরি স্বীকার না করে তিনি আরও বলেন, ” আমার অজান্তে কেউ এসব কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”