ঈদের দিনে স্ত্রীকে মাংস কিনে না খাওয়াতে পারায় কস্টে যুবকের আত্নহত্যা

104

মোঃ মোক্তার হোসাইন:স্টাফ রিপোর্টার-
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ঈদে স্ত্রীকে মাংস কিনে দিতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের বান্দের পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তার চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আত্মহত্যা করা ওই যুবকের নাম হাসান আলী (২৬)। তিনি বান্দের পাড় গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। হাসান রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ জানায়, হাসান আলী প্রতিদিনের মতো ঈদের দিন রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যান। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী আফরোজা বেগমকে নিজ বাড়িতে আনার কথা ছিল হাসানের। সকাল ১১ টা পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতে না যাওয়ায় তার স্ত্রী আফরোজা বেগম পাশের গ্রাম জোলা পাড়া থেকে স্বামী হাসানের বাড়িতে যান এবং ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এ সময় তিনি ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে হাসানকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনা জানতে পারেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পাশে একটি চিরকুট দেখতে পায় পুলিশ।

আত্মহত্যা করার আগে হাসান আলী চিরকুটে লিখেছে, ‘মা-বাবা তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমি মরার পরে আমার বউ-বাচ্চাকে দেখে রেখো। আমি জানি আমার বউ আমার সাথে রাগ করছে। ঈদের জন্য সবাই গুছ (গোস্ত) খাইছে, কিন্তু আমি গুছ খাওয়াইতে পারি নাই। আমি আমার বউয়ের মুখ ঈদের দিন বেজার দেখছি। যদি পারো আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

তিনি তার বাবা-মার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, ‘বাবা-মা তোমরা আফরোজাকে (স্ত্রী) কিছু বলবা না, কারণ ওরে আমি খুব ভালোবাসি। আমার মেয়েকে দেখ রেখো।’ স্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আফরোজা তোমার জীবন স্বাধীন করে দিলাম। তোমার জীবনে কেউ নাই।’

বকশীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, অভাব-অনটনের কারণে ওই ব্যক্তি এই কাজ করে থাকতে পারে। পরিবারের আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।