বিমানে আনা পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি হবে-বাণিজ্যমন্ত্রী

332

স্টাফ রিপোর্টারঃবাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, পেঁয়াজ নিয়ে বিপদে আছি। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কমেছে। বিমানে আনা পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি হবে। এক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেবে।

অস্ট্রেলিয়ায় এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পেঁয়াজ এবং লবণ নিয়ে কথা বলেন বাণিজ‌্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিপু মুনশি বলেন, পেঁয়াজবাহী প্লেন দেশে পৌঁছালেই চার-পাঁচশ ট্রাকে ভরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেব, যাতে সব জায়গায় দাম কমে যায়। কার্গো বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান পৌঁছানোর সময় এক দিন পিছিয়েছে। বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান আজকে (মঙ্গলবার) আসার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সেটা বুধবার আসবে।

টিপু মুনশি বলেন, সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্র পথে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। আকাশ পথে আমদানি করা হচ্ছে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ। মিসর থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজযোগে ঢাকার পথে রয়েছে। পেঁয়াজবাহী প্রথম উড়োজাহাজ মিসরের কায়রো থেকে জেদ্দা হয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে ২০ নভেম্বর গভীর রাতে।

তিনি বলেন, এরপর প্রতিদিন প্যাসেঞ্জার ও কার্গো ফ্লাইটে পেঁয়াজ অব্যাহতভাবে ঢাকায় আসবে। এছাড়া, সমুদ্র পথে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। পেঁয়াজের মূল‌্যও দ্রুত গতিতে কমছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শুরু থেকেই আমদানিকারকদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ এবং মিয়ানমার পেঁয়াজের মূল্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি করলে বিকল্প হিসেবে মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, ‘সমুদ্র পথে পেঁয়াজ আসতে সময় বেশি লাগায় এখন তা আকাশ পথে আমদানি করা হচ্ছে। দেশে দৈনিক প্রায় ৬ হাজার টন পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। দেশের মজুত এবং আমদানিকৃত পেয়াঁজ মিলে তা পর্যাপ্ত হবে। এরই মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসবে। সামনে কোনো সমস্যা হবে না।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আদানি করতে হয়। এর বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এখন আমদানিনির্ভর না থেকে চাহিদার পুরো পেঁয়াজই দেশে উৎপাদনের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য কৃষকদের ভর্তুকি ও উৎসাহ দেয়া হবে। এছাড়া, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যাতে পেঁয়াজ সারা বছর সংরক্ষণ করা যায়। মৌসুমের সময় পেঁয়াজ আমদানির কারণে যাতে দেশের কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে সময় পেঁয়াজ আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের উপযুক্ত মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে।

হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে লবণের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণের মজুদ আছে। গুজব ছড়িযে দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুত রয়েছে। কোনোভাবেই লবণের দাম বাড়ার সুযোগ নেই। এটা একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাড়িয়েছে। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বলেছি, এ মুহূর্তে বাজার মনিটর করে জড়িতদের জেল-জরিমানা করুন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, লবণের বিষয়ে আমাদের সরকারের তরফ থেকে একটাই কথা- এটা শুধু একটা গুজব। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবাস্তব সুযোগ নিয়েছে। যদিও লবণের বিষয়টা শিল্প মন্ত্রণালয় দেখে, তারপরও আমি আসার আগে এ খবরটাও নিয়ে এসেছি, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ টন লবণ মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশীয় লবণচাষিদের সুবিধা দেয়ার জন্য আমরা আমদানিও বন্ধ করে রেখেছি। লবণের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। শুধু অসাধু ব্যবসায়ীরা এটা বাড়িয়েছে। এজন্য আমি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধানকে বলেছি, আপনার এই মুহূর্তে বাজার মনিটর করেন। যাকে জেল দেয়া দরকার তাকে জেল দেন, যাকে জারিমানা করার দরকার তাকে জরিমানা করেন।